মহেশখালি দ্বীপে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র

  • আকবর হোসেন
  • বিবিসি বাংলা, ঢাকা
ছবির ক্যাপশান,

জার্মানিতে কয়লা-ভিত্তিক একটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র।

বাংলাদেশের উপকূলীয় জেলা কক্সবাজারের মহেশখালি দ্বীপে ১২০০ মেগাওয়াটের একটি কয়লা-ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের জন্য মালয়েশিয়ার একটি কোম্পানির সাথে সমঝোতা স্মারক সাক্ষর করেছে সরকার।

বাংলাদেশের কর্মকর্তারা বলছেন আগামী ১৫ বছরে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি চাহিদা পূরণের জন্য মহেশখালিতে একটি এনার্জি হাব তৈরির প্রক্রিয়া নিয়ে সরকার অগ্রসর হচ্ছে।

এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে মহেশখালিতে বড় ধরনের বেশ কয়েকটি কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।

সরকারি হিসাবে আগামী ১৫ বছরে দেশে ৩৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা তৈরি হবে ।

এই চাহিদার অর্ধেক কয়লা-ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে উৎপাদনের পরিকল্পনা আছে। সরকার বলছে এর মূল কেন্দ্র হবে মহেশখালিতে।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানী প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন মহেশখালিতে বেশ কয়েকটি বড় বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ ছাড়াও আমদানি করা তরল গ্যাসের জন্য সেখানে একটি টার্মিনাল তৈরি করা হবে। এজন্য জাপান , চীন এবং মালয়েশিয়াসহ অন্যান্য দেশের সাথে অংশিদারিত্বের ভিত্তিতে বিভিন্ন প্রকল্প গড়ে তোলা হবে।

কিন্তু এ পরিকল্পনা এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে । যদিও কয়েকটি প্রকল্পের জন্য এরই মধ্যে মহেশখালিতে ভূমি অধিগ্রহণ শুরু করেছে।

মহেশখালীতে এতো বড়ো ধরণের প্রকল্প বাস্তবায়ন করলে সেখানকার পরিস্থিতি কেমন হবে সেটি এখনো পরিষ্কার নয়।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ এবং বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ইজাজ হোসেন এনার্জি হাব তৈরির ধারণা নিয়ে কিছুটা সন্দেহ পোষণ করছেন।

এনার্জি হাব তৈরির বিষয়টিকে রাজনৈতিক বক্তব্য হিসেবে বর্ণনা করছেন অধ্যাপক হোসেন। তিনি বলেন, “এর পেছনে যতটা শ্রম এবং গবেষণা করা দরকার সেটা করা হয়নি। কিভাবে সেটা গড়ে তোলা হবে সে বিষয়টিও পরিষ্কার না। কোথায় রাস্তা হবে বা অন্য কিছু হবে সে ব্যাপারে কোন পরিকল্পনা করা হয়নি।”

দেশের বিভিন্ন জায়গায় কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপনের পরিকল্পনা নিয়ে পরিবেশবাদীদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে।