ফেলানি হত্যা মামলার রায়ের পুনর্বিবেচনা

  • অমিতাভ ভট্টশালী
  • বিবিসি বাংলা, কলকাতা

ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বিএসএফের গুলিতে নিহত বাংলাদেশী কিশোরী ফেলানি খাতুন হত্যা মামলার রায়ের রিভিউ বা পুনর্বিবেচনা শুরু হয়েছে।

এ জন্য বাংলাদেশ থেকে ফেলানির বাবাকে ভারতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

এক বছর আগে বিএসএফের নিজস্ব আদালতে বিচারের রায়ে অভিযুক্ত বিএসএফ কনস্টেবল অমিয় ঘোষ খালাস পেয়ে যান।

পরে মানবাধিকার বিভিন্ন সংগঠনের প্রবল চাপে বিএসএফের মহাপরিচালক সেই রায় রিভিউ করার নির্দেশ দেন।

প্রায় একবছর বাদে সেই প্রক্রিয়া আজ (সোমবার) শুরু হয়েছে। বিএসএফ কর্মকর্তারা বলছেন পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহার জেলার সোনারি ছাউনিতে বাহিনীর নিজস্ব আদালতে ফেলানি হত্যা মামলার রায়ের পুনর্মূল্যায়ন শুরু হয়েছে।

যে পাঁচ অফিসার প্রথম রায় দিয়েছিলেন, পুনর্মূল্যায়নের সময়েও তারাই আদালত চালাচ্ছেন।

এই প্রক্রিয়া অংশ নিতে ফেলানির বাবা ও তাদের আইনজীবী সহ চারজন ভারতে এসেছেন।

সাধারণত পুনর্ম্যূল্যায়নের সময়ে প্রথম রায়টিকেই খুঁটিয়ে দেখা হয় যে কোনও আইনি ফাঁক থেকে গেছে কী না।

তবে ফেলানি মামলার ক্ষেত্রে নতুন এক ব্যক্তির সাক্ষ্য নেওয়া হচ্ছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। সেই সাক্ষ্যের পর প্রয়োজন হলে আগের সাক্ষীদেরও ডাকা হতে পারে বলে মনে করছেন কর্মকর্তারা।

গত মাসেই বিএসএফের প্রাক্তন পূর্বাঞ্চলীয় প্রধান বি ডি শর্মা বিবিসি কে জানিয়েছিলেন যে সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যেই ওই পুনর্মূল্যায়নের কাজ শেষ করা হবে।

২০১১ সালের ৭ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহার জেলার অন্তর্গত চৌধুরীহাট সীমান্ত চৌকির কাছে কাঁটাতারের বেড়া টপকানোর সময় ফেলানি খাতুন কনস্টেবল অমিয় ঘোষের গুলিতে মারা যায়।

দীর্ঘক্ষণ তাঁর দেহ বেড়ার ওপরেই ঝুলে ছিল।

হত্যাকাণ্ডের ঐ ছবি নিয়ে সে সময় দুই দেশ ছাড়াও আন্তর্জাতিক মহলেও তীব্র সমালোচনা হয়েছে।

চাপের মুখে কনস্টেবল অমিয় ঘোষের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩০৪ ধারা অনিচ্ছাকৃত খুন এবং বিএসএফ আইনের ১৪৬ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছিল।