নিরামিষাশী ঈদের প্রচারণাকারীদের বিরুদ্ধে মামলা

ছবির কপিরাইট S Niazi
Image caption নিরামিষাশী ঈদ পালনের ডাক দিয়ে প্রচারণার সময় 'পেটা' কর্মীদের ওপর হামলা

ভারতে ঈদের সময় পশু জবাই বন্ধ করে পরিবর্তে ‘নিরামিষাশী ঈদ’ পালনের প্রচারণা চালাতে গিয়ে যে পশুপ্রেমীরা গতকাল প্রহৃত হয়েছিলেন, তাদের বিরুদ্ধে পুলিশ আজ ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেয়ার অভিযোগে মামলা করেছে।

ভারতের মধ্য প্রদেশের ভোপাল শহরে একটি পশু প্রেমী সংস্থা ‘পিপল ফর দ্য এথিক্যাল ট্রিটমেন্ট অব এনিম্যালস’ বা পেটা’র এই কর্মীদের গতকাল একটি মসজিদের সামনে পেটানো হয়।

ভোপাল শহরের পুরনো অংশে ভারতের সবচেয়ে বড় মসজিদগুলোর একটি, তাজুল মসজিদের সামনে সাত-আট জনের এই দলটি প্রচারণা চালাচ্ছিল। তাদের পোস্টারে লেখা ছিল ‘মেক ঈদ হ্যাপি ফর অল – গো ভেগান’। অর্থাৎ মুসলিমদের প্রতি তাদের আহ্বান ছিল, আসন্ন কোরবানির ঈদকে সবার জন্য খুশির করে তুলুন – নিরামিষাশী হয়ে যান।

এই পশুপ্রেমীদের নেতৃত্বে ছিলেন সুরাইয়া বেনজির নামে এক তরুণী। তিনি নিজেই এসেছিলেন এমন এক বোরখা পাড়ে, যা ছিল নানা শাকসব্জি আর সবুজ পাতায় সাজানো – যাতে নিরামিষ খাবারের প্রতি মানুষের আগ্রহ বাড়ে।

কিন্তু মসজিদের ভেতর এই প্রচারনার খবর যেতেই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে, দলে দলে লোকজন এসে তাদের ঘিরে ধরেন ও হেনস্থা করেন বলে অভিযোগ।

পরিস্থিতি যখন প্রায় হাতের বাইরে চলে যাচ্ছে, তখন ভোপালের পুলিশ এসে ওই তরুণী আর তার সঙ্গীদের উদ্ধার করে নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নিয়ে যায়। তারপর থেকে সুরাইয়া বেনজির বা তাঁর সতীর্থরা কেউই আর প্রকাশ্যে আসেননি। তবে মধ্যপ্রদেশ রাজ্যে পুলিশের অঅইজি যোগেশ চৌধুরী এদিন জানিয়েছেন, মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করার অভিযোগে ভারতীয় দন্ডবিধির ২৯৫ (এ) ধারায় ওই প্রচারকারীদের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করা হয়েছে।

আর যে সংগঠন এই প্রচার শুরু করেছিল, সেই পেটা ইন্ডিয়ার তরফে কোনও মুখপাত্র এদিন সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হতে চাননি। তারা শুধু একটি বিবৃতি দিয়ে বলেছেন, যেহেতু তারা পশুদের নৃশংসভাবে হত্যার বিরোধী, তাই তারা বরাবরই নিরামিষাশী খাবারের পক্ষে প্রচার চালিয়ে আসছেন – কিন্তু সেটা সব সময়ই শান্তিপূর্ণ উপায়ে। আর এই প্রচার ঈদ-দেওয়ালি-বড়দিন সব উৎসবের আগেই চালানো হয় – কাজেই এর সঙ্গে কোনও বিশেষ একটি ধর্মের সম্পর্ক নেই।

পেটা ইন্ডিয়া ভারতের গবাদি পশুর জবাইখানাগুলোর করুণ দশা আর নিষ্ঠুরতা নিয়ে প্রচার চালিয়ে আসছে বহুদিন ধরেই আর তাতে তারা ভাল সাড়াও পেয়েছেন। টেনিস-তারকা সানিয়া মির্জা থেকে বলিউডের সানি লিওন, ক্রিকেটার প্রজ্ঞান ওঝা থেকে চিত্রতারকা আয়ুষ্মান খুরানা সকলেই তাদের অ্যাম্বাসাডর হয়ে কাজ করেছেন বা করছেন।

পেটা ইন্ডিয়ার সুপরিচিত মুখ ও অন্যতম প্রধান কর্মকর্তা পূর্বা জোশীপুরাকেই অবশ্য আজ বিবৃতি দিয়ে বলতে হয়েছে, তাদের আন্দোলন কোনও ধর্মের বিরুদ্ধে নয় – শুধু পশুদের প্রতি নৃশংসতা বন্ধ করার পক্ষে। কিন্তু ভোপালের ঘটনায় যেভাবে উত্তেজনা ছড়িয়েছে, তাতে কিন্তু তাদের হয়ে কোনও অ্যাম্বাসাডরই এখনও মুখ খোলেননি - এবং পেটাকেও যে কিছুটা রক্ষণাত্মক হতে হয়েছে তাতে সন্দেহ নেই।