কোরবানির পরিচ্ছন্নতায় সিটি কর্পোরেশনের পরিকল্পনা

ঢাকার শাহ্‌জাহানপুরে পুড়িয়ে ফেলা হচ্ছে কোরবানির বর্জ্য ছবির কপিরাইট focus bangla
Image caption ঢাকার শাহ্‌জাহানপুরে পুড়িয়ে ফেলা হচ্ছে কোরবানির বর্জ্য

ঈদের দিন লক্ষ লক্ষ পশু জবাই করার পর কিভাবে শহরকে পরিচ্ছন্ন করা হবে, প্রতি বছর তা ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের জন্য এক বিরাট চ্যালেঞ্জ।

ঈদ উপলক্ষে সোমবার ঢাকায় জবাই করা হয়েছে প্রায় পাঁচ লক্ষ পশু, এবং বেশিরভাগ মানুষ তাদের বাড়ীঘরের আঙ্গিনায় বা রাস্তার ওপরই এই কাজটি করেছেন। আগামী কয়েকদিন ঢাকা শহরের পরিবেশ হয়ে উঠবে পুঁতিগন্ধময়।

স্বাভাবিকভাবেই দাবি উঠেছে, যেখানে-সেখানে কোরবানির পশু জবাই না করে চোখের আড়ালে একটি সমন্বিত ব্যবস্থা গড়ে তোলার। সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তারা আশ্বাস দিচ্ছেন, তারা আগামী বছর থেকে এরকম একটি ব্যবস্থার পরিকল্পনার করছেন।

ঢাকার মীরপুরের একটি অ্যাপার্টমেন্ট কমপ্লেক্সের নিচতলার গাড়ি পার্কিং এলাকায় গরু জবাই করা হচ্ছে, ভবনটির বাসিন্দারা বেশ উৎসাহ উদ্দীপনা নিয়েই সেখানে উপস্থিত রয়েছেন দর্শক হিসেবে।

এই পার্কিং এলাকাটিতে সকালে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে ছটি গরু এবং তিনটি ছাগল বাঁধা। পার্কিংগুলোতে গাড়ি ছিল খুবই কম। বোঝাই যাচ্ছে এখানকার বেশীরভাগ বাসিন্দাই ঈদের ছুটি কাটাতে গ্রামে গেছেন।

যারা রয়ে গেছেন তারাই এখানে কোরবানির আয়োজন করেছেন। একজন কসাই একের পর এক পশু জবাই করছেন, এবং জবাইয়ের পর পশুটি থেকে বেরিয়ে আসা বিপুল পরিমান রক্ত চলে যাচ্ছে ওই পার্কিং এলাকাটিরই কোনায় তৈরি একটি নালার মধ্যে দিয়ে শহরের মূল নর্দমায়।

এখানকার একজন বাসিন্দা আব্দুর রহমান বলছেন, এর পরও যেসব বর্জ্য অবশিষ্ট থাকবে, তা তারা ধুয়ে মুছে ফেলবেন এবং ব্লিচিং পাউডার ছিটিয়ে দেবেন। সন্ধ্যা নাগাদ বোঝাই যাবে না যে এখানে সকালে কোনও গরু জবাই করা হয়েছে।

মীরপুরেরই আরেকটি ভবনে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে ৮০র ওপর অ্যাপার্টমেন্ট রয়েছে। সেখানে আরো বিপুল আয়োজন, আরো বিস্তর পশু রয়েছে কোরবানি হওয়ার অপেক্ষায়। এখানকার একজন বাসিন্দা শামসুদ্দীন জিয়া, যিনি নিজেও একটি গরু কোরবানি দিচ্ছেন, তিনি বলছিলেন, ''যদি নগর কর্তৃপক্ষ একটি জায়গা ঠিক করে দিত কোরবানি দেয়ার জন্য তাহলে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা করাটা তাদের জন্য আরো সহজ হতো।''

এই ভবনটি থেকে বেরিয়ে এসে রাস্তার দুপাশে দেখা গেল, অসংখ্য পশু কোরবানি হচ্ছে, খোলা জায়গায়। রাস্তার দুধার এরই মধ্যে পুঁতিগন্ধময় হয়ে উঠেছে। রক্তে ভেসে যাওয়া রাস্তা ধরে হেঁটে চলাই দুষ্কর। যারা কোরবানি দিচ্ছেন তারা বর্জ্য পরিষ্কার না করে ওভাবেই ফেলে রেখে চলে যাচ্ছেন।

ঢাকায় গত কয়েকদিন ধরেই চলছে কোরবানির দক্ষযজ্ঞ। অসংখ্য পশুর হাট নির্ধারিত জায়গাগুলো ছাপিয়ে বিস্তার লাভ করেছিলো সড়কগুলোতেও। আগারগাঁওয়ের তালতলা পশুর হাটটি এরই মধ্যে বেশ সমালোচনা সৃষ্টি করেছে কয়েকটি হাসপাতালের প্রবেশপথ বন্ধ করে দেয়ার অভিযোগে। সোমবার সেখানে গিয়ে দেখা গেলো ভাঙা হাট। খড় বিচালি আরো গরুর গোবরে ঢেকে গেছে রাস্তা।

পশু কোরবানি হওয়ার পর ধারণা করা হচ্ছে ঢাকা শহরেই মোট ৩৫০০০ টনের বেশী বর্জ্য তৈরি হবে, যা পরিষ্কার করতে হবে দুই ভাগে বিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনের ১৫০০০ পরিচ্ছন্নতা কর্মীকে।

কর্মকর্তারা বরাবরের মতোই বলছেন, তারা আগামী ৪৮ ঘন্টার মধ্যেই এসব বর্জ্য পরিষ্কার করে ফেলবেন, যদিও এর আগে প্রতিবছরই তারা এই প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে ব্যর্থ হয়েছেন।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা বিপন কুমার সাহা অবশ্য বলছেন, ঢাকা ও চট্টগ্রাম শহরে এখন যত্রতত্র পশু কোরবানি দেয়াটা একটা বিলাসিতার পর্যায়ে চলে গেছে। ফলে আগামী বছর থেকেই তারা পরিকল্পনা করছেন, অন্তত ঢাকায় পশু কোরবানিতে অন্ততপক্ষে ওয়ার্ডভিত্তিক স্থান নির্ধারণ করে দেয়ার।