লতিফ সিদ্দিকীর দেশে ফেরা অনিশ্চিত

আপনার ডিভাইস মিডিয়া প্লেব্যাক সমর্থন করে না

এবার চূড়ান্ত বহিস্কারের প্রশ্নে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীকে নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

মঙ্গলবার ঢাকার জিগাতলা পোষ্ট অফিস থেকে রেজিষ্ট্রি ডাকে লতিফ সিদ্দিকীর টাঙ্গাইলের কালিহাতির স্থায়ী ঠিকানায় এই নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

হজ্জ্ব সম্পর্কে বিতর্কিত মন্তব্যের পর বাংলাদেশে তাঁর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পর গত রোববার মন্ত্রিপরিষদ থেকে তাঁকে অপসারণ করা হয়।

রোববার আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে তাঁকে প্রেসিডিয়াম থেকে বহিস্কার এবং দলে প্রাথমিক সদস্য পদ থেকে সাময়িক বহিস্কার করা হয়।

এখন আওয়ামী লীগ থেকে কেন তাঁকে স্থায়ীভাবে বহিস্কার করা হবে না, তা জানতে চেয়ে কারণ দর্শনোর নোটিশ পাঠানো হলো।

মি. সিদ্দিকী বর্তমানে ভারতের কলকাতায় অবস্থান করছেন।

এদিকে, বাংলাদেশের মন্ত্রিসভা থেকে অপসারিত এবং ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ থেকে বহিস্কৃত নেতা আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী বিবিসিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, তিনি দেশে ফিরে যেতে চান, তবে এ ব্যাপারে দল এবং সরকারের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছেন।

সোমবার বিবিসিকে দেয়া এক দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে মিস্টার সিদ্দিকী বলেছেন, দল এবং সরকারকে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলার জন্য তিনি অনুতপ্ত, কিন্তু যে বক্তব্যের জের ধরে বাংলাদেশে তাকে নিয়ে এই বিতর্ক শুরু হয়, সেটা নিয়ে তাঁর কোন অনুশোচনা নেই।

মিস্টার সিদ্দিকী মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রের একটি ঘরোয়া আড্ডায় দেয়া তার বক্তব্য অপ্রাসঙ্গিকভাবে ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে প্রচার করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেছেন, তিনি বাংলাদেশেই ফিরে যেতে চান, কিন্তু দেশে ফিরে গেলে দল এবং সরকারকে আরও বিব্রতকর অবস্থায় ফেলা হবে কিনা তা নিয়ে তিনি চিন্তিত।

মিস্টার সিদ্দিকী ইঙ্গিত দিয়েছেন যে দেশে ফিরতে না পারলে তিনি আপাতত ভারতেই থাকতে চান।

এর আগে মন্ত্রিসভা থেকে অপসারণের পর আবদুল লতিফ সিদ্দিকীকে আওয়ামী লীগ থেকেও বহিস্কার করা হয়েছে। রোববার আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী পরিষদের এক সভায় এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

নিউইয়র্কে এক অনুষ্ঠানে হজ্জ্ব নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের পর বাংলাদেশে তাকে মন্ত্রিসভা থেকে ছাঁটাই এবং তাঁর বিচারের দাবিতে ইসলামপন্থী দলগুলো আন্দোলন শুরু করেছিল।

এ নিয়ে তীব্র আলোচনা-সমালোচনার পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষণা করেছিলেন যে লতিফ সিদ্দিকীকে মন্ত্রিসভায় রাখা হবে না। রাষ্ট্রপতি হজ্জ্ব থেকে ফিরলেই তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রোববার বঙ্গভবনের রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তারপরই লতিফ সিদ্দিকীকে অপসারণ করে আদেশ জারি করা হয়।