দাসত্বের শিকার বাংলাদেশিদের জেলে পাঠাতে চায় থাইল্যান্ড

Image caption জঙ্গলের বন্দীশিবির থেকে উদ্ধার পাওয়া বাংলাদেশিদের একজন

থাইল্যান্ডের জঙ্গলে ক্রীতদাস হিসেবে বিক্রির জন্য আটকে রাখা হয়েছিল যে বাংলাদেশিদের, তাদের নিয়ে কি করা হবে তা নিয়ে থাই সরকারের মধ্যে মতবিরোধ শুরু হয়েছে।

আন্দামান উপকুলের কাছে থাইল্যান্ডের জঙ্গল থেকে স্থানীয় কর্মকর্তারা সম্প্রতি এদের উদ্ধার করেন।

ব্যাংকক থেকে বিবিসির সংবাদদাতা জোনাথান হেড জানান, থাইল্যান্ডের কেন্দ্রীয় সরকার এবং পুলিশ কর্মকর্তারা এখন এদের অবৈধ অভিবাসী হিসেবে কারাগারে পাঠাতে চাইছে।

গহীন জঙ্গলের বন্দীদশা থেকে যে ১৭০ জনকে থাই কর্মকর্তারা উদ্ধার করেন, তাদের বেশিরভাগই বাংলাদেশি। এদেরকে ভালো বেতনের চাকুরিতে বিদেশে পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছিল। কিন্তু এরপর তাদের মাদক খাইয়ে হাত-পা বেঁধে নৌকায় তোলা হয়। এরপর থাইল্যান্ডে নিয়ে তাদেরকে পাচারকারীরা জঙ্গলে তিন সপ্তাহ আটকে রাখে। সেখানে বন্দী অবস্থায় অনেককে মারধোর করা হয়, অনাহারে রাখা হয়।

বিবিসির জোনাথান হেড জানান, উদ্ধার পাওয়া বাংলাদেশিদের অনেকেই শারীরিক ও মানসিকভাবে প্রায় ভেঙ্গে পড়েছেন। তাকে সাক্ষাৎকার দেয়ার সময় অনেককে কান্নায় ভেঙ্গে পড়তে দেখা যায়। এরা এখন যত দ্রুত সম্ভব দেশে ফিরে যেতে চাইছেন।

থাইল্যান্ডের স্থানীয় কর্মকর্তারা স্বীকার করেছেন যে সংঘবদ্ধ পাচারকারীরা সেখানকার জঙ্গলে দাস বেচা-কেনা করছে। এদেরকেও সেই উদ্দেশ্যেই ধরে নিয়ে আসা হয়েছিল। তারা এই পাচার চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলেছেন।

বিবিসির সংবাদদাতা জোনাথান হেড জানান, স্থানীয় কর্মকর্তারা যাই বলুন, থাইল্যান্ডের কেন্দ্রীয় সরকার বিষয়টিকে দেখছে ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে। যারা এই পাচারকারী চক্রের হোতা, তাদের অনেকেই প্রভাবশালী এবং উচ্চ পর্যায়ে তাদের ভালো যোগাযোগ আছে। তাই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের ব্যাপারে পুলিশের মধ্যে অনীহা আছে।

অতীতে এ ধরণের পাচার চক্রের শিকার হয়েছিলেন যারা, তাদের উদ্ধারের পর অবৈধ অভিবাসী হিসেবে জেলে পাঠিয়ে দেয়া হয়। কিন্তু জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর এদের আবার পাচারকারীদের কাছেই বিক্রি করে দেয়া হয়েছিল।

উদ্ধার পাওয়া এই বাংলাদেশিদের ভাগ্যে এখন তাই ঘটতে চলেছে কিনা, সেটাই এখন প্রশ্ন।

প্রত্যাবাসনের উদ্যোগ

এদিকে বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন, তারা ইতোমধ্যে এই বাংলাদেশিদের ব্যাপারে থাইল্যান্ডের সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। এই বাংলাদেশিদের আপাতত থাংরা প্রদেশে রাখা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, যে ১৩২ জনকে জঙ্গল থেকে উদ্ধার করা হয়, তাদের মধ্যে ১২২ জনই বাংলাদেশি বলে থাই কর্তৃপক্ষ একটা প্রাথমিক ধারণা দিয়েছেন। বাকীরা মিয়ানমারের নাগরিক হতে পারেন, যারা সচরাচর রোহিঙ্গা নামে পরিচিত।

শহীদুল হক বলেন, এ ধরণের মানব পাচারের ঘটনা আগেও ঘটেছে। থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া এবং বাংলাদেশকে ঘিরে একটি চক্র সক্রিয়। এরা বাংলাদেশ এবং মিয়ানমারের নাগরিকদের থাইল্যান্ড এবং মালয়েশিয়ায় পাচারের চেষ্টা করে।

বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তারা যাতে উদ্ধারপ্রাপ্তদের সঙ্গে কথা বলে তাদের জাতীয়তা যাচাই করতে পারে সেজন্যে থাই কর্তৃপক্ষের কাছে তারা অনুমতি চেয়েছেন।

শহীদুল হক বলেন, যদি যাচাই করে দেখা যায় যে এরা বাংলাদেশি, তখন তাদের দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেয়া হবে। তিনি বলেন, থাই কর্তৃপক্ষ এদেরকে বিচারের মুখোমুখি দাঁড় করাবে না বলেই তিনি আশা করেন, আন্তর্জাতিক রীতি-নীতি মেনেই তাদের দেশে ফিরিয়ে আনার কূটনৈতিক উদ্যেগ নেয়া হবে।