কড়া নিরাপত্তায় ঢাকায় গোলাম আযমের জানাজা

ছবির কপিরাইট focus bangla
Image caption বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে গোলাম আযমের জানাজা

ঢাকার বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমীর গোলাম আযমের জানাজার পর মগবাজারের পারিবারিক গোরস্থানে দাফন করা হয়েছে।

হাজার হাজার মানুষ এই জানাজায় অংশ নেন। বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের সামনে রাস্তা জুড়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন মানুষ।

জানাজা পরিচালিত হয় গোলাম আযমের ছেলে আবদুল্লাহিল আমান আযমীর নেতৃত্বে।

তবে জাতীয় মসজিদে তার জানাজার বিরোধিতা করে বিক্ষোভ করার চেষ্টা করে কিছু সংগঠন।

১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের বিরোধিতাকারী গোলাম আযমের জানাজাকে ঘিরে গত দুদিন ধরেই বাংলাদেশে বিতর্ক চলছিল।

গত বৃহস্পতিবার ঢাকার এক হাসপাতালে ৯১ বছর বয়সে মারা যান গোলাম আযম। ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে তার ৯০ বছরের সাজা হয়েছিল।

ছবির কপিরাইট AFP
Image caption মানবতা বিরোধী অপরাধে দন্ডভোগের সময় মারা যান গোলাম আযম

কড়া নিরাপত্তা

দুপুরে যখন মগবাজারের বাসভবন থেকে গোলাম আযমের মৃতদেহ বহনকারী গাড়িটি বায়তুল মোকাররমে আনা হয়, তখন সেটাকে দেখাচ্ছিল একটি শোভাযাত্রার মতো। এসময় পুলিশী নিরাপত্তা ছিল চোখে পড়ার মতো। মগবাজার থেকে পুরো সড়কের একদিকের যান চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়।

বায়তুল মোকারমের উত্তর পার্শ্বে পল্টন মোড় থেকে শুরু করে মতিঝিল শাপলা চত্বর পর্যন্ত এক কিলোমিটারেরও বেশী যে রাস্তা, এর পুরোটাই লোকে লোকারণ্য ছিল। মসজিদের ভেতরটাও ছিল কানায় কানায় পূর্ণ।

ঢাকা থেকে বিবিসির আহারার হোসেন জানান, ঢাকা সহ সারাদেশ থেকে আসা জামায়াতে ইসলামী এবং ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মী-সমর্থকরা জানাজায় অংশ নেন। তবে বড় রাজনৈতিক দলগুলোর উল্লেখযোগ্য কোন নেতাকে জানাজায় অংশ নিতে দেখা যায়নি।

আহারার হোসেন বলেন, জামায়াতে ইসলামী যেহেতু গত কয়েক বছরে প্রকাশ্যে বড় কোন সভা-সমাবেশ করতে পারেনি সরকারের বাধার মুখে, তাই এই জানাজাকে তারা দলের শক্তি ও জনসমর্থন প্রকাশের সুযোগ হিসেবে নেয়। অন্যদিকে সরকারও এই জানাজা অনুষ্ঠানে কোন বাধা দেয়ার চেষ্টা করেনি। বরং এটিকে ঘিরে যাতে কোন গোলযোগ না হয়, সেজন্যে নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেয়া হয়।

জুতা নিক্ষেপ

গোলাম আযমের মৃত্যুর পর বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের বিরুদ্ধে তাঁর ভূমিকা নিয়ে আবারও বিতর্ক চলছিল গত কদিন ধরে।

কোনও কোনও সংগঠন বায়তুল মোকাররমে গোলাম আযমের জানাজাকে প্রতিহত করবার ঘোষণাও দেয়।

বাংলাদেশ সম্মিলিত ইসলামী জোট এবং বাংলাদেশ অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম মিছিল করে বায়তুল মোকাররমের দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ বাধা দেয়। দুটি মিছিলকেই পল্টন মোড় অতিক্রম করতে দেয়নি পুলিশ।

তবে কোনও কোনও প্রত্যক্ষদর্শী বলছেন, অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরামের নেতারা পুলিশ বক্সের সামনেই অপেক্ষা করছিল। গোলাম আযমের মৃতদেহবাহী গাড়িটি যখন ওই মোড়টি অতিক্রম করে, তখন এদের একজন জয়বাংলা শ্লোগান দিয়ে ওই গাড়িটিকে লক্ষ্য করে একপাটি জুতো ছুড়ে মারেন। এসময় দুপক্ষের মধ্যে কিছুটা উত্তেজনা দেখা দিলেও পুলিশ দ্রুতই তা নিয়ন্ত্রণে আনে বলে জানা যাচ্ছে।