কেনিয়ায় জঙ্গী হামলায় ২৮ জন বাসযাত্রী নিহত

আল শাবাব জঙ্গীরা এই হত্যাকান্ড চালিয়েছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে

ছবির উৎস, AFP

ছবির ক্যাপশান,

আল শাবাব জঙ্গীরা এই হত্যাকান্ড চালিয়েছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে

কেনিয়ার পুলিশ জানিয়েছে সন্দেহভাজন আল শাবাব জঙ্গীরা সোমালিয়া সীমান্তবর্তী একটি এলাকায় অন্তত ২৮ জন বাস যাত্রীকে হত্যা করেছে।

পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, কেনিয়ার রাজধানী নাইরোবি যাওয়ার পথে মানডেরা এলাকায় এই বাসটি অপহরণ করে আল শাবাব জঙ্গীরা।

এরপর বাসযাত্রীদের মধ্য থেকে অমুসলিমদের আলাদা করে গুলি চালিয়ে হত্যা করা হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীদের উদ্ধৃত করে কোন কোন খবরে বলা হচ্ছে, যারা কোরানের আয়াত বলতে ব্যর্থ হয় তাদের হত্যা করা হয়।

কেনিয়া ২০১১ সালে সোমালিয়ায় সৈন্য পাঠানোর পর থেকেই সেখানে একের পর এক জঙ্গী হামলা শুরু হয়। এসব হামলার জন্য আল শাবাব জঙ্গীদের দায়ী করা হয়।

ঠান্ডা মাথায় খুন

আল শাবাব জঙ্গী গোষ্ঠীর সদস্যরা কিভাবে একের পর এক ২৮ জন বাসযাত্রীকে ঠান্ডা মাথায় হত্যা করে, তার বর্ণনা দিয়েছেন বেঁচে যাওয়া কয়েকজন বাস যাত্রী।

তারা জানিয়েছেন, আজ সকালে যখন বাসটি আক্রান্ত হয়, তখন ড্রাইভার গতি বাড়িয়ে সেখান থেকে সরে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু ভারী বৃষ্টির ফলে রাস্তা ছিল কর্দমাক্ত। বাসটি সেই কাদায় আটকে যায়। দশজন সশস্ত্র জঙ্গী বাস যাত্রীদের নেমে আসতে বলে। জঙ্গীরা এরপর বাসযাত্রীদের মধ্য থেকে সোমালিদের আলাদা করে। এরপর যারা সোমালিয়ান নয়, তাদের কোরানের আয়াত পড়ে প্রমাণ করতে বলা হয় যে তারা মুসলিম।

বলছিলেন বেঁচে যাওয়া এক যাত্রী আহমেদ মাহাত, “জঙ্গীরা ওদের বলছিল, কোরানের আয়াত পড়ে শোনাতে। যারা এটা করতে পারেনি, তাদের একের পর মাথায় বন্দুক ঠেকিয়ে ঠান্ডা মাথায় হত্যা করা হয়।”

তিনি আরও জানান, সোমালিয়ান যাত্রীদের অনেকে জঙ্গীদের কাছে কাকুতি-মিনতি করছিলেন, যেন অন্যদেরও ছেড়ে দেয়া হয়। ক্ষিপ্ত জঙ্গীরা তখন এই সোমালিয়ানদেরও গুলি করে।

জঙ্গী গোষ্ঠী আল শাবাব ইতোমধ্যে এই হত্যাকান্ডের দায় স্বীকার করেছে। তারা বলেছে, সম্প্রতি উপকুলীয় শহর মোম্বাসার মসজিদগুলোতে নিরাপত্তা বাহিনী যে অভিযান চালিয়েছে তার প্রতিশোধ হিসেবে তারা এই হত্যাকান্ড চালিয়েছে।

কেনিয়ায় জঙ্গী গোষ্ঠী আল শাবাবের হামলা বেড়ে যায় ২০১১ সালে দেশটি সোমালিয়ায় সেনাবাহিনী পাঠানোর পর। আফ্রিকান ইউনিয়নের বহুজাতিক শান্তিরক্ষী বাহিনীর অংশ হিসেবে কেনিয়ার সেনাবাহিনী এখনো সোমালিয়ায় রয়েছে।