মৃত্যুদন্ড: কায়সার বাহিনীর প্রধান কেন অপরাধী?

আদালত থেকে কারাগারে নেয়া হচ্ছে সৈয়দ মোহাম্মদ কায়সারকে। ছবির কপিরাইট focus bangla
Image caption আদালত থেকে কারাগারে নেয়া হচ্ছে সৈয়দ মোহাম্মদ কায়সারকে।

বাংলাদেশের একজন সাবেক প্রতিমন্ত্রী ও জাতীয় পার্টির নেতা সৈয়দ মোহাম্মদ কায়সারকে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে মৃত্যুদন্ডের আদেশ দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

আদালত বলেছে, তার বিরুদ্ধে গণহত্যা ও ধর্ষণসহ ১৬টি অভিযোগের মধ্যে ১৪টি প্রমাণিত হয়েছে।

এর মধ্যে সাতটি অভিযোগে ফাঁসির আদেশ ও চারটিতে আমৃত্যু কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।

হবিগঞ্জের মাধবপুর ছিল সৈয়দ মোহাম্মদ কায়সারের দ্বারা পরিচালিত 'কায়সার বাহিনীর' মূল লক্ষ্য স্থল। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরুর পর ২৭শে এপ্রিল মাধবপুরের ইটখোলা এলাকায় প্রথম হামলা করে তারা।

তবে তার আগেই ব্রাহ্মণবাড়িয়াতে পাকিস্তানি বাহিনীর সাথে হাত মিলিয়ে তিনি তাদের সব রকম সহযোগিতা দেয়ার প্রতিশ্রতি দেন।

২৭শে এপ্রিলের পর ইটখোলাসহ মাধবপুরের আশেপাশের ২২টি গ্রামে হত্যা, গণহত্যা, ধর্ষণ ও অগ্নি সংযোগের ঘটনা ঘটে।

হবিগঞ্জের মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য কাজি কবিরউদ্দিন জানান, এসব ঘটনায় মি. কায়সার কখনো সরাসরিভাবে আবার কখনো তার বাহিনী দিয়ে পাকিস্তানী বাহিনীকে সাহায্য করেছিলেন।

সৈয়দ মো.কায়সার ১৯৭০ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হন।

তবে তার বাবা সৈয়দ সইদউদ্দিন ১৯৬০ সালে কনভেনশন মুসলিম লীগের নিবার্চিত সদস্য হওয়ায় এলাকায় তাদের বেশ প্রভাব ছিল।

মুক্তিযোদ্ধা কাজি কবিরউদ্দিন বরেন, এপ্রিল থেকে ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত মাধবপুর বাজারের পশ্চিমাংশ ও পার্শ্ববর্তী কাটিয়ারায় লুটপাট ও অগ্নিসংযোগসহ বিভিন্ন নির্যাতনের প্রত্যক্ষদর্শী ছিলেন তিনি।

তিনি জানান, ৬ই ডিসেম্বর হবিগঞ্জ স্বাধীন হওয়ার আগেই মি. কায়সার লন্ডনে পালিয়ে যান।

১৯৭৫ সালে বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমান সপরিবারে নিহত হওয়ার পর পটপরিবর্তনের সুযোগে তিনি আবার দেশে ফেরেন। ১৯৭৮ সালে তিনি আবারো রাজনীতিতে সক্রিয় হন।

১৯৭৯ সালে সংসদ নির্বাচনে সিলেট থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ভোটে দাঁড়িয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

পরে জিয়াউর রহমানের সময়ে তিনি বিএনপিতে যাগ দেন এবং সংসদের হুইপ হন।

মি. কায়সারের অধীন 'কায়সার বাহিনীর' হাতে নিহত হন মাধবপুরের অহিদ হোসেন পাঠান।

তার ছেলে মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী পাঠান জানান, এরপর তিনি এইচএম এরশাদের সময়ে যোগ দেন জাতীয় পার্টিতে। ১৯৮৮ সালে নির্বাচনে জাতীয় পার্টি থেকে সংসদ সদস্য হয়ে কৃষি প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব নেন।

এরশাদ সরকারের পতনের পর তিনি আবারো আত্মগোপন করেন।

পরে সিক্রয় রাজনীতি থেকে সরে গিয়ে তিনি বিভিন্ন ব্যবসায়িক ও শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন।