'মুসলিম-শাসিত ফ্রান্স' : কাল্পনিক উপন্যাস নিয়ে হৈচৈ

france_soumission_novel ছবির কপিরাইট bbc
Image caption সুমিশন নামের বইটি বাজারে এসেছে বুধবার

ফ্রান্সে ইসলামী শাসন কায়েম হয়েছে। মেয়েরা বোরকা পরছে, বহুবিবাহ বৈধ করা হয়েছে, আর বিশ্ববিদ্যালয়ে বাধ্যতামূলকভাবে পড়ানো হচ্ছে কুরআন।

একটি সদ্যপ্রকাশিত উপন্যাসে ২০২২ সালের ফ্রান্সের এমন এক কাল্পনিক চিত্র তুলে ধরার পর তা নিয়ে শুরু হয়েছে তুমুল হৈচৈ।

ফ্রান্সের সবচেয়ে বিখ্যাত জীবিত লেখক মিশেল হুয়েলবেক-এর লেখা 'সুমিশন' (ইংরেজীতে সাবমিশন)- যার বাংলা অর্থ দাঁড়ায় 'সমর্পণ' আজ বুধবার বাজারে ছাড়া হয়েছে।

তবে এর সপ্তাহখানেক আগে থেকেই উপন্যাসটির বিষয়বস্তু ফ্রান্সে সৃষ্টি করেছে তুমুল বিতর্ক।

এতে তুলে ধরা হয়েছে ২০২২ সালের ফ্রান্সের এক কাল্পনিক চিত্র, যখন একটি মুসলিম রাজনৈতিক দলের নেতা দেশটির নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে ক্ষমতায় আসীন হয়েছেন।

উপন্যাসে বলা হচ্ছে এর পর ফ্রান্সে ইসলামী শাসন কায়েম হয়, এবং তার প্রভাব পড়ে জীবনের সব ক্ষেত্রে। এতে মেয়েদের চাকরি না করতে উৎসাহিত করা হচ্ছে, এবং তার ফলে পুরুষদের কাজের সুযোগ বেড়ে যাওয়ায় বেকারত্ব কমে গেছে। প্যরিসের শহরতলীগুলোতে থেকে অপরাধ উধাও হয়ে গেছে।

মেয়েদের সর্বত্রই দেখা যাচ্ছে বোরকা পরতে। বহুবিবাহ বৈধ করা হয়েছে আর বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় বাধ্যতামূলকভাবে কুরআন পড়ানো হচ্ছে।

ছবির কপিরাইট bbc
Image caption লেখক মিশেল হুয়েলবেক

ফ্রান্সে সম্প্রতি ইমিগ্রেশনবিরোধী ন্যাশনাল ফ্রন্ট জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। সুমিশন উপন্যাসে দেখা যায়, এর নেত্রী মেরিন লা পেনকে ঠেকাতের মূলধারার দলগুলো একজন মুসলিম নেতার পেছনে ঐক্যবদ্ধ হচ্ছে।

বইটির বিরুদ্ধে সাহিত্যের ছদ্মবেশে 'ইসলামবিরোধী ভীতি ছড়ানো'র অভিযোগ এনে সমালোচনা করেছেন অনেকেই।

টিভি উপস্থাপক আলি বাদ্দু বলেছেন, "বইটি পড়ে আমি অসুস্থ বোধ করেছি, অপমানিত হয়েছি। একজন মহান ঔপন্যাসিকের বইয়ে ইসলামবিদ্বেষ ছড়ানোর মধ্যে দিয়ে আমাদের নতুন বছর শুরু হলো।"

ফরাসী দার্শনিক এ্যালাঁ ফিংকেলক্রাউট অবশ্য বলেছেন, "ফ্রান্সের আশু ইসলামীকরণকে তুলে ধরে তিনি সমস্যা ঠিক যেখানে - সেখানেই হাত দিয়েছেন।"

ঔপন্যাসিক মিশেল হুয়েলবেক -যিনি একবার ইসলামকে 'সবচেয়ে নির্বোধ ধর্ম' বলে আখ্যায়িত করে বিতর্কিত হয়েছিলেন - বলেছেন, তিনি উস্কানিমূলক কোন উদ্দেশ্য নিয়ে এ বই লেখেননি।

তার কথায়, একটি মুসলিম পার্টি ফ্রান্সের রাজনীতি বদলে দিতে পারে এমন সম্ভাবনা সত্যি আছে।

লা ফিগারো-কে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি আরো বলেছেন, সারা পৃথিবীতেই ধর্মের পুনরুত্থান ঘটছে, নাস্তিকতা বড় বেশি বিষণ্ণ।

"আমি নিজেও এখন আর নাস্তিক নই এবং আলোকিত মানুষের শূন্যতার চাইতে ইসলামও ভালো"

হুয়েলবেকের কথায়, "কুরআন আবার পড়ার পর আমার মনে হয়েছে - এটা আমি যা ভেবেছিলাম তার চাইতে ভালো। সব ধর্মের মতোই এতেও ব্যাখ্যার সুযোগ রয়েছে, সাধারণভাবে কুরআনে আক্রমণাত্মক ধর্মযুদ্ধের চাইতে একাকী প্রার্থনাকেই উৎসাহিত করা হয়েছে।"

"তাই আমি কোন ভয় থেকে এই উপন্যাস লিখেছি বলে মনে হয় না।" বলেন মিশেল হুয়েলবেক।

চিঠিপত্র: সম্পাদকের উত্তর