মহিন্দা রাজাপাকশের বিদায়ের পর শ্রীলংকা

mahinda rajapakshe
Image caption নির্বাচনে হারার পর সমর্থকদের সাথে মহিন্দা

নির্বাচনের দিন কলম্বোয় একটি ভোটগণনা কেন্দ্রে সারাদিন ধরে পুলিশ আর সেনাবাহিনীর কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলেছেন একজন কর্মী।

তিনি বলছিলেন, "তাদের কথায় আমার কাছে এটা স্পষ্ট হয়ে যায় যে সেনাবাহিনী রাজাপাকশের বিদায় দেখার জন্য উন্মুখ হয়ে আছে।"

বিবিসির চার্লস হ্যাভিল্যান্ড বলছেন, সেনাবাহিনীর মনে কি আছে তা যদিও স্পষ্টভাবে প্রকাশ পায় খুব কমই - কিন্তু এটা ঠিক যে শ্রীলংকার সেনাবাহিনী ভাবছিল 'যথেষ্ট হয়েছে, রাজাপাকশে আর নয়।'

মহিন্দা রাজাপাকশে অবশ্য শ্রীলংকার প্রতিরক্ষা বাজেটে বিপুল পরিমাণ টাকা ঢেলেছিলেন। তামিল টাইগারদের বিরুদ্ধে তার বিজয়কে পুঁজি করে তিনি সহজেই এর আগের নির্বাচনগুলো জিতেছেন।

ছবির কপিরাইট Reuters
Image caption বিজয়ের পর মৈত্রীপালা সিরিসেনা

সিনহালারা এ জন্যে তাকে সম্মানের চোখে দেখতো, ওই যুদ্ধে বিপুল পরিমাণ বেসামরিক তামিল নিহত হওয়া সত্বেও।

বলা হয় মহিন্দা এবং তার পরিবার শ্রীলংকার অর্থনীতির ৭০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করেন। সরকারের বিভিন্ন উচ্চপদে ছিলেন তার পরিবারের সদস্যরা। অনেকেই মহিন্দার নাম উচ্চারণ না করে শুধু বলতেন 'উনি'।

দেশটিতে চলছিল এক বিচিত্র পরিস্থিতি। সেখানে বিক্ষোভ হতো, কিন্তু তা সাধারণত অ-রাজনৈতিক ইস্যু নিয়ে। মানবাধিকার নিয়ে কোন সমাবেশ হলে সরকারপন্থীরা একটা পাল্টা সমাবেশ করতেন। কিছু সাংবাদিক সরকারের সমালোচনা করতেন, তবে ইংরেজি ভাষায় - যা সবাই বোঝে না।

তামিলদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের সময়কার নৃশংসতা নিয়ে খুব কমই কথা বলা যেতো। বিষয়টি নিয়ে এখন জাতিসংঘের তদন্ত চলছে।

ছবির কপিরাইট Reuters
Image caption নির্বাচনের দিন

কেউ যদি এ ক্ষেত্রে যুদ্ধাপরাধের কথা তোলেন, তাকে নাম দেয়া হয় 'বিশ্বাসঘাতক' বলে। নতুন প্রেসিডেন্ট মৈত্রীপালা সিরিসেনা নিজেও এমন কথা বলেছেন, যখন তিনি রাজাপাকশের সরকারে মন্ত্রী ছিলেন।

সিরিসেনা বলেছেন, তিনি তার দেশের বিচ্ছিন্নতা কাটাতে চান। কিন্তু একটা বড় প্রশ্ন হচ্ছে, তিনি যুদ্ধাপরাধের ব্যাপারে জাতিসংঘের তদন্তে সহযোগিতা করবেন কিনা, নাকি একে অভ্যন্তরীণ তদন্তে সীমাবদ্ধ করে রাখবেন।

প্রশ্ন রয়েছে কট্টরপন্থী বৌদ্ধ ভিক্ষু সংগঠন 'বোদু বালা সেনা' নিয়েও - তারা গত দু বছর ধরে শ্রীলংকায় মুসলিম আর খ্রীষ্টানদের বিরুদ্ধে ঘৃণা ও সহিংসতা ছড়িয়েছে।

মহিন্দা রাজাপাকশের অন্তর্ধানের সাথে সাথে কি তারাও হাওয়ায় মিলিয়ে যাবে?

ছবির কপিরাইট AFP
Image caption সিরিসেনার ছবিতে চুমু খাচ্ছেন এক সমর্থক

রাজাপাকশের সময় আরো যারা নির্যাতন, অপহরণ বা মানবাধিকার লংঘনের শিকার হয়েছিলেন তাদের ক্ষেত্রেই কি ভিন্ন কিছু ঘটবে এবার? বলা কঠিন, যদিও মি. সিরিসেনা আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার করেছেন।

শ্রীলংকার দুটি বৃহৎ সংখ্যালঘু সম্প্রদায় হচ্ছে তামিল আর মুসলিমরা। তারা বিপুল সংখ্যায় মি. সিরিসেনার পক্ষে ভোট দিয়েছে।

ভূরাজনৈতিক ভাবে শ্রীলংকা এখন চীনের অনেক বেশি ঘনিষ্ঠ। চীনারা দেশটিতে আধুনিক বন্দর, রেলপথ আর মহাসড়ক তৈরি করে দিয়েছে। কিন্তু এই ঘনিষ্ঠতা আবার প্রতিবেশী ভারতকে উদ্বিগ্ন করেছে।

ফলে নতুন প্রেসিডেন্টকে অভ্যন্তরীণ, আঞ্চলিক ও আর্ন্জাতিক সব দিকেই অনেকের সাথে সুসম্পর্ক রেখে চলতে হবে।