কূটনৈতিক জোনে খালেদার অফিস নিয়ে মন্ত্রীর প্রশ্ন

শাহজাহান খান ছবির কপিরাইট focus bangla
Image caption খালেদ জিয়ার অফিসের বাইরে সমাবেশে মন্ত্রী শাহজাহান খান (ছবি - ফোকাস বাংলা)

বাংলাদেশে বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার অফিসের বাইরে এক বিক্ষোভ সমাবেশে সরকারের নৌ পরিবহন মন্ত্রী শাহজাহান খান বলেছেন, কূটনৈতিক এলাকায় এ ধরণের রাজনৈতিক অফিস থাকতে পারেনা।

অব্যাহত অবরোধ-হরতাল কর্মসূচি প্রত্যাহারের দাবিতে কয়েক হাজার শ্রমিক নিয়ে খালেদা জিয়ার গুলশানের কার্যালয়ের গলির মুখে এক সমাবেশে মন্ত্রী শাহজাহান খান এই মন্তব্য করেন।

মন্ত্রী বলেন, অফিসে বসে বিএনপি নেত্রী, তার ভাষায়, সহিংসতা এবং নাশকতায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

অবরোধ-হরতাল প্রত্যাহার না হলে এবং সহিংসতা চললে খালেদা জিয়াকে গ্রেফতারের নতুন হুমকি দিয়েছেন আওয়ামী লীগের এই নেতা।

শ্রমিক কর্মচারী, পেশাজীবী এবং মুক্তিযোদ্ধা সমন্বয় পরিষদের ব্যানারে খালেদা জিয়ার কার্যালয় ঘেরাওয়ের এই কর্মসূচি নেয়া হয়েছিল।

সমাবেশের আগে মন্ত্রী শাহজাহান খানের নেতৃত্বে এক মিছিলে একটি হাত বোমা হামলায় কয়েকজন আহত হয়।

সরকার চায় খালেদা অফিস ছাড়ুন?

জানুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহে সরকারের বিরুদ্ধে নতুন করে আন্দোলন শুরু পর থেকেই খালেদা জিয়া বাড়ি ছেড়ে তার অফিসেই অবস্থান করছেন।

গত বেশ কদিন ধরে সরকারি দলের বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের ব্যানারে খালেদা জিয়ার ঐ অফিসের কাছাকাছি বিক্ষোভ, ঘেরাওয়ের কর্মসূচি দিচ্ছে।

সরকারের উঁচু মহলের কিছু সূত্র উদ্ধৃত করে আমাদের সংবাদদাতা কাদির কল্লোল বলছেন, সরকার চাইছে খালেদা জিয়া যেন তার অফিস ছেড়ে বাড়িতে চলে যান। সরকার মনে করছে, অফিসে থাকার কারণে খালেদা জিয়া বেশি করে সংবাদ মাধ্যম সহ অন্যদের মনোযোগ আকর্ষণ করতে পারছেন।

খালেদা জিয়ার অফিসে সাক্ষাৎ-প্রার্থীদের ওপর পুলিশি নজরদারি এবং অনেক সময় নাজেহালের ঘটনা বাড়ছে।

এছাড়া, কিছুদিন আগে ঐ অফিসের বিদ্যুৎ, টেলিফোন, ইন্টারনেট সংযোগ এবং কেবল টিভির সংযোগ কেটে দেওয়া হয়।

পরে পর্যায়ক্রমে বিদ্যুৎ এবং টেলিফোন সংযোগ ফিরে এলেও, ইন্টারনেট এবং কেবল টিভি সংযোগ এখনো বিচ্ছিন্ন বলে খালেদা জিয়ার সহকর্মীরা অভিযোগ করেছেন।

কাদির কল্লোল বলছেন, এসব পদক্ষেপে সরকারের সেই মনোভাবের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।

অন্যদিকে বিএনপির নির্ভরযোগ্য সূত্র বিবিসিকে বলেছেন, খালেদা জিয়া তার অফিস না ছাড়ার সিদ্ধান্তে অনড়। তিনি আশঙ্কা করছেন, বাড়িতে গেলে নেতা-কর্মীদের মধ্যে আন্দোলনের নেতৃত্ব নিয়ে হতাশা বিভ্রান্তি আসতে পারে।

চিঠিপত্র: সম্পাদকের উত্তর