লাইবেরিয়ায় ইবোলার ভয় সত্ত্বেও স্কুলে যেতে চায় শিশুরা

Image caption স্কুলপ্রাঙ্গন পরিচ্ছন্নতায় সহায়তা করছে শিক্ষার্থীরা।

লাইবেরিয়ায় প্রাণঘাতী ইবোলো ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ায় দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর চলতি সপ্তাহের সোমবার স্কুল গুলো খুলে দেয়া হয়েছে।

তবে ভাইরাস ছড়িয়ে পড়া রোধে স্কুল বন্ধের সিদ্ধান্তটি যৌক্তিক প্রমাণিত হয়েছে।

যদিও এখনো কিছু ইবোলা আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা রয়েছে তারপরে শিশুরা এখন স্কুলে ফিরে যেতে আগ্রহী।

ইবোলায় সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়েছিলো লাইবেরিয়া। প্রায় চার হাজার মানুষ তাতে নিহত হয়েছে যা দেশটির ইতিহাস যেকোনো প্রাদুর্ভাবে সবচেয়ে বেশি।

লাইবেরিয়া ছাড়াও বিপর্যয় নেমে এসেছিলো প্রতিবেশী সিয়েরা লিওন ও গিনি।

ভাইরাস সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে সরকার স্কুলগুলো বন্ধ করে দিয়েছিলো। অন্য আরও কিছু পদক্ষেপের সাথে এটিও কার্যকর ফল দিয়েছে। এখন সেখানে অল্পকিছু ঘটনা আছে ইবোলার।

বিবিসির সংবাদদাতা সেখানে কথা বলেছেন স্কুলে যেতে চায় এমন শিশু দের সাথে। একি সাথে কথা হয়েছে যারা যেতে চায়না তাদের সাথেও।

ইসাক ও হেনরি নামের দু শিক্ষার্থী সমাপনি বর্ষের ছাত্র।

এখনো তাদের মধ্যে ভয় কাজ করছে কি-না জানতে চাইলে হেনরি বলেন তিনি উদ্বিগ্ন ছিলেন যে হয়তো বন্ধুদের মাধ্যমে সেও ইবোলায় আক্রান্ত হতে পারে এবং তারপর তার মাধ্যমে পরিবারেও সেটি যেতে পারে।

ইসাকের ধারণা ছিল হয়তো শিক্ষকদের কারণে সে সংক্রমিত হতে পারে।

Image caption ইসাক ও হেনরি

কিন্তু দুজনই এখন যত দ্রুত সম্ভব স্কুলে যেতে আগ্রহী। এ সপ্তাহেই তারা পড়াশোনা শুরু করে দিয়েছে।

বার বছরের প্যাট্রিকও স্কুলে ফিরে যেতে চায়। কিন্তু ইবোলা সব তছনছ করে দিয়েছে।

মাকে সাথে নিয়ে ভর্তি হতে গিয়েও পারেনি সে নতুন একটি নিয়মের কারণে যে ইবোলার আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা ঠেকাতে ক্লাসরুম সর্বোচ্চ ৫০ জনে সীমাবদ্ধ রাখার কথা বলা হয়েছে।

লাইবেরিয়াতে একটি ক্লাসের জন্য ৫০জন খুবই কম। এ বছর তা পূর্ণ হয়ে যাওয়ায় প্যাট্রিক আর ভর্তি হতে পারেনি।

Image caption অ্যাডামা

১৪ বছর বয়সী অ্যাডামা’র বাবা মারা গেছে ও মা অসুস্থ হয়েছে ইবোলা সংক্রমণে।

অ্যাডামা বলেন, “মা আক্রান্ত হওয়ার সবাই বলেছে আমরা তোমাকে দেখতে চাইনা কারণ তিনি (মা) একজন ইবোলা রোগী”।

পরে অ্যাডামার খালা তাকে বাড়ীতে নিয়ে যান ও দেখভাল করেন। এখন তারা ঠাণ্ডা পানির প্লাস্টিক ব্যাগ বিক্রি করেন। অ্যাডামাও এখন স্কুলে যেতে চায়।

চিঠিপত্র: সম্পাদকের উত্তর