দু'পক্ষের স্বার্থ রেখে তিস্তা চুক্তিতে আপত্তি নেই: মমতা

bd_hasina_mamata_meeting ছবির কপিরাইট focusbangla
Image caption শেখ হাসিনা ও মমতা ব্যানার্জির বৈঠক

বাংলাদেশের পানির ন্যায্য হিস্যা এবং পশ্চিমবঙ্গের স্বার্থ রক্ষা করে তিস্তা চুক্তি হলে তাতে আপত্তি নেই - আজ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে বৈঠকে একথা বলেছেন ঢাকা সফররত ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি।

আজ হাসিনা-মমতা বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রীর তথ্যবিষয়ক উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, বাংলাদেশের জনগণ যেন তিস্তার পানির ন্যায্য হিস্যা পায় সেজন্য মমতা ব্যানার্জি 'পজিটিভ ভুমিকা' রাখার নিশ্চয়তা দিয়েছেন।

তিনি জানান, "মমতা ব্যানার্জি প্রধানমন্ত্রীকে বলেছেন যে বাংলাদেশের জনগণের হিস্যা এবং পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের প্রয়োজন অর্থাৎ দু-দেশের জনগণের স্বার্থ সংরক্ষণ করে তিস্তা চুক্তি অবিলম্বে করা হবে। "

মমতা ব্যানার্জির আপত্তির কারণেই ২০১১ সালে ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংএর ঢাকা সফরের সময় তিস্তা চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয় নি।

মি.চৌধুরী জানান, মমতা ব্যানার্জি স্পষ্ট করেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বলেছেন যে 'আপনি চিন্তা করবেন না। তিস্তার বিষয়টি সুরাহা হবে।'

"তিনি বলেছেন, অনেক বাধা অতিক্রম করে আমি এখানে এসেছি। এখন আর কোন বাধা থাকবে না" - বলেন মি. চৌধুরী।

এ ব্যাপারে কেন্দ্রীয় সরকারের সাথে তিনি কথা বলবেন, এবং তার ভুমিকা হবে অত্যন্ত পজিটিভ - একথাই জানিয়েছেন মমতা ব্যনার্জি।

এ ছাড়াও স্থলসীমান্ত চুক্তি এবং ছিটমহল হস্তান্তর নিয়েও মমতা ব্যানার্জির সাথে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের কথা হয়েছে এবং লোকসভার আসন্ন বাজেট অধিবেশনেই এ চুক্তিটি অনুমোদিত হবে বলে তিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে জানিয়েছেন - বিবিসি বাংলার মানসী বড়ুয়াকে দেয়া সাক্ষাৎকারে বলেন ইকবাল সোবহান চৌধুরী।

১৯৭৪ সালের ওই চুক্তি অনেক আগেই বাংলাদেশের সংসদে অনুমোদিত হয়েছে কিন্তু ভারতের পার্লামেন্টে অনুমোদন এখনো না পাওয়ায় তা এতদিনেও কার্যকর করা যায় নি।

ইকবাল সোবহান চৌধুরী উল্লেখ করেন যে ভারতের নতুন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সাথে নিউইয়র্কে শেখ হাসিনার সাক্ষাতের সময় তিনি বলেছিলেন, বাংলাদেশের সাথে সম্পর্ক ঘনিষ্ঠতর করার জন্য অমীমাংসিত বিষয়গুলো নিষ্পত্তি করতে তিনি আগ্রহী।

সে কারণেই মমতা ব্যানার্জির এ সফরের পর তিস্তা এবং স্থলসীমান্ত চুক্তি - দুটি বিষয়েই আশু অগ্রগতি হবে বলে আশাবাদ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা।

চিঠিপত্র: সম্পাদকের উত্তর