ছিটমহল বিনিময় নিয়ে প্রশ্ন মানবাধিকার সংগঠনের

bd_india_enclaves ছবির কপিরাইট bbc
Image caption মশালডাঙআ ছিটমহল

ভারতের একটি মানবাধিকার সংগঠন বলছে, ছিটমহল বিনিময় সেখানকার নাগরিকত্বহীন মানুষদের সমস্যার সমাধান করবে না ।

দু দেশের সীমান্ত এলাকায় সক্রিয় মানবাধিকার সংগঠন' মাসুম' তাদের সমীক্ষা রিপোর্ট প্রকাশ করে আজ অভিযোগ করেছে ভারত ও বাংলাদেশ – তাদের সিদ্ধান্ত ছিটমহলবাসীদের ওপর চাপিয়ে দিচ্ছে।

এমন এক সময় সংগঠনটি এ রিপোর্ট প্রকাশ করলো - যখন ঢাকা সফররত পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বলছেন যে আসন্ন লোকসভা অধিবেশনে ভারত বাংলাদেশ স্থল সীমান্ত চুক্তি অনুমোদিত হতে যাচ্ছে।

মানবাধিকার সংগঠন মাসুম তাদের সমীক্ষা রিপোর্টে বলছে যে জমি বিনিময় নয়, প্রথমে ছিটমহলবাসীদের নাগরিকত্বের পরিচয় পত্র দেওয়া আর নাগরিক পরিষেবাগুলি দেওয়া অনেক বেশী জরুরী।

মাসুমের সম্পাদক কিরীটি রায়ের কথায়, “রাষ্ট্র বৈষয়িক দিক থেকে, জমির দিক থেকে সমস্যাটা দেখতে চাইছে। আমাদের সেটাতে আপত্তি আছে।“

মি. রায় আরও বলছিলেন যে দুই দেশের ১৬২ টি ছিটমহল বিনিময়ের যে পরিকল্পনা করা হয়েছে, তা নিয়ে সেখানকার বাসিন্দাদের কোনও মতামত নেওয়া হয় নি। রাষ্ট্রের সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে।

তাঁদের সমীক্ষায় দেখা গেছে যে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে থাকা ভারতীয় ছিটমহলগুলির অনেক বাসিন্দাই ভারতীয় মূল ভূখন্ডের সঙ্গে যুক্ত হতে চান।

ছবির কপিরাইট bbc
Image caption 'মাসুম'-এর রিপোর্ট

১৬২ টির মধ্যে পাঁচটি ভারতীয় ছিট আর ১৮টি বাংলাদেশী ছিটে সমীক্ষা হয়েছে। ভারতীয় ছিটমহলের মধ্যে থাকা একটি বাংলাদেশী ছিটেও সমীক্ষা হয়েছে।

ভারতীয় ছিটমহলগুলিতে আগে থেকে চিঠি দিয়ে জানিয়ে একজায়গায় জড়ো করে মতামত নেওয়া হয়েছে তবে বাংলাদেশী ছিটগুলিতে বাড়ি বাড়ি গিয়ে সমীক্ষা করা হয়েছে।

ঘটনাচক্রে, দুই দশক ধরে ছিটমহল বিনিময়ের দাবীতে আন্দোলনরত ভারত-বাংলাদেশ ছিটমহল বিনিময় সমন্বয় কমিটি এর আগে দুবার সমীক্ষা চালিয়ে বলেছিল যে বাংলাদেশী ছিটমহলের বাসিন্দারা সকলেই ভারতের নাগরিকত্ব চান। অন্যদিকে বাংলাদেশের ভেতরে থাকা ভারতীয় ছিটমহলগুলির সাতশোর সামান্য বেশী মানুষ ভারতে আসতে চান – বাকিরা বাংলাদেশে অন্তর্ভুক্ত হতে চান – এমনটাই জানিয়েছিল সমন্বয় কমিটি।

আজ প্রকাশিত মাসুমের নতুন সমীক্ষা প্রসঙ্গে ছিটমহল বিনিময় সমন্বয় কমিটির নেতা দীপ্তিমান সেনগুপ্ত বলছিলেন, “এঁরা কীভাবে সমীক্ষা চালিয়েছেন জানি না। তবে এটুকু বলতে পারি যে সব ছিটমহলবাসীর সঙ্গে কথা বলা হয় নি।"

"দ্বিতীয়ত, ছিটমহলের কিছু মানুষ ফেন্সিডিল, গাঁজা আর চোরাই মোটরসাইকেলের কারবার চালান। ছিটমহলগুলি বিনিময় হয়ে গেলে এই কায়েমী স্বার্থের কাজ বন্ধ হয়ে যাবে। সেজন্যই এইসব সার্ভে করিয়ে দেখানো হচ্ছে যে বিনিময় করা ঠিক নয়।“

কায়েমী স্বার্থই ছিটমহল বিনিময় চাইছে না - মি. সেনগুপ্তের তোলা এই গুরুতর অভিযোগ সম্বন্ধে মাসুমের সম্পাদক কিরীটি রায় বলছিলেন. “কারা এইসব প্রশ্ন তুলছেন বুঝতে পারছি। তবে তাঁরা নিজেরা আগে আয়নার সামনে দাঁড়ান। তাঁরাই বলুন যে এতবছরে কেন ছিটমহল চুক্তি হয় নি, কীভাবে ওই সব অনৈতিক কারবার চলে, কারা টাকা পায়।“

ভারত আর বাংলাদেশের ছিটমহলগুলি নিয়ে এই নতুন সমীক্ষার কাজ এখনও সম্পূর্ণ হয় নি বলেই জানিয়েছে মাসুম।

চিঠিপত্র: সম্পাদকের উত্তর