দেশের পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে: সংলাপে আওয়ামী লীগ

আপনার ডিভাইস মিডিয়া প্লেব্যাক সমর্থন করে না

বিবিসি বাংলাদেশ সংলাপে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের একজন নেতা বলেছেন বর্তমান অবস্থায় দেশ পরিচালনা কঠিন। তবে তার দাবি পরিস্থিতির উন্নতি হতে শুরু করেছে।

অন্যদিকে বিএনপির একজন সিনিয়র নেতা বলেছেন সংলাপের মাধ্যমে সংকট সমাধানের উদ্যোগ না নিলে দেশে গৃহযুদ্ধের মতো পরিস্থিতি হতে পারে।

শনিবার ঢাকায় বিয়াম মিলনায়তনে সংলাপের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের চাপ, ঢাকা সফরে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর তিস্তা ইস্যুতে দেয়া বক্তব্য এবং বিশ্বকাপ ক্রিকেটে বাংলাদেশের সম্ভাবনার বিষয়গুলো আলোচনায় উঠে আসে।

সংলাপের এ পর্বে আলোচক ছিলেন আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক মন্ত্রী মুহাম্মদ ফারুক খান, বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য অবসরপ্রাপ্ত লে জেনারেল মাহবুবুর রহমান, সাবেক নির্বাচন কমিশনার ও নিরাপত্তা বিশ্লেষক এম সাখাওয়াত হোসেন এবং সাবেক রাষ্ট্রদূত নাসিম ফেরদৌস।

অনুষ্ঠানে প্রথম প্রশ্ন করেন রায়হানা ইয়াসমিন।

তিনি জানতে চান চলমান রাজনৈতিক সংকট সমাধানে আন্তর্জাতিক পর্যায় থেকে তাগিদ দেয়া হচ্ছে। আন্তর্জাতিক উদ্যোগ এর আগে কার্যকরী না হলেও আর কোন বিকল্প কি রয়েছে?

জবাবে নাসিম ফেরদৌস বলেন সংলাপের বিকল্প সংলাপ বা সমঝোতা। আর কোন বিকল্প নেই।

তিনি বলেন , “আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সুযোগ সীমাবদ্ধ। অবরোধ দিতে পারে। হয়তো বলতে পারে সহিংসতা বন্ধ না করলে এখান থেকে পণ্য নেবেনা, জনশক্তি নেবেনা। তাহলে রাজনীতি কার জন্য”।

Image caption দর্শক

সাখাওয়াত হোসেন বলেন, "সংকটের তৈরি করেছেন রাজনীতিকরাই। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়েছে বলেই এ সমস্যা তৈরি হয়েছে। সংলাপের মাধ্যমেই সমাধান করতে হবে এবং সংলাপের প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে যে কোন পর্যায় থেকেই"।

তিনি বলেন সংলাপের জন্য সরকার কতদিন চাপ এড়িয়ে থাকতে পারবে সেটাই বড় প্রশ্ন।

মুহাম্মদ ফারুক খান বলেন যারা রাজনীতির বদলে সহিংসতা করছে তাদের সাথে সংলাপ হতে পারেনা। আর বিদেশীদের চাপের কাছেও নতি স্বীকারের কিছু নেই।

তবে সরকার সংলাপের বিরোধী নয় এবং সময়মত সে সংলাপ অনুষ্ঠিত হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, “পরিস্থিতির উন্নতি হতে শুরু করেছে। বিএনপি জোট যদি হরতাল অবরোধ তুলে নেয় তাহলে শান্তি ফিরে আসবে এবং আলোচনার অবস্থা তৈরি হবে”।

মাহবুবুর রহমান বলেন সংলাপের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদ্যোগকে সরকারের ইতিবাচক ভাবে নেয়া উচিত। কারণ দেশ এখন চরম বিপর্যয়ে রয়েছে।

তিনি বলেন, “সহিংসতার জন্য বিএনপি দায়ী নয়। এ অবস্থা চলতে থাকলে পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকেই যাবে। এক্ষেত্রে সংলাপই হতে পারে সংকট সমাধানের একমাত্র পথ”।

চার বছর পার করা সম্ভব হবে ?

খাইরুন তামান্না জানতে চান সংকটের রাজনৈতিক সমাধান না করে সরকারের পক্ষে কি সুষ্ঠুভাবে আগামী চার বছর দেশ পরিচালনা সম্ভব ?

Image caption দর্শক

ফারুক খান বলেন, "দেশের যে অবস্থা তাতে দেশ পরিচালনা কঠিন। তবে অবস্থার উন্নতি হচ্ছে। জনগণও বিভিন্ন স্থানে প্রতিরোধ শুরু করেছে"।

বিএনপি হরতাল অবরোধ তুলে নিলে রাজনৈতিক পরিবেশ সৃষ্টি হবে এবং তাতে আলোচনার পরিবেশ তৈরি হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সাখাওয়াত হোসেন বলেন, "এমনিতেই তিন বছর পর সরকার অজনপ্রিয় হতে শুরু করে। আর এখন এমন একটি সংসদ যা অবৈধ নয় কিন্তু নৈতিকভাবে দুর্বল, এর পক্ষে পাঁচ বছর যাওয়া কঠিন হতে পারে"।

মাহবুবুর রহমান বলেন বলেন, “ পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি হচ্ছে। মানুষ হাঁফিয়ে উঠেছে। এ অবস্থায় একমাসও কঠিন। অনেকে পেট্রোল বোমা নিয়ে ধরা পড়েছে কিন্তু তাদের ছেড়ে দেয়া হচ্ছে। এ অবস্থায় চার বছর কি করে টেনে নিয়ে যাবে। গৃহযুদ্ধের দিকে ঠেলে দেয়া হচ্ছে এবং এ অবস্থার জন্য সরকারই দায়ী”।

নাসিম ফেরদৌস বলেন, "বিরোধী দল যদি মনে করে কর্মসূচি তুলে নিয়ে দেখতে পারে সহিংসতা বন্ধ হচ্ছে কিনা, তখন বন্ধ না হলে দায়িত্ব সরকারের উপরই পড়বে"।

তিনি বলেন, "উস্কানিমূলক বক্তব্য পরিহার করতে দলগুলোর এসব বিষয়ে কথা বলার জন্য নির্দিষ্ট মুখপাত্র থাকা উচিত”।

Image caption দর্শকদের একাংশ

মমতা ও তিস্তার পানি ইস্যু

এটিএম শফিকুর রহমান লিংকন জানতে চান তিস্তা নদীর পানি বণ্টন চুক্তির ব্যাপারে তাঁর ওপর আস্থা রাখতে অনুরোধ করেছেন মমতা ব্যানার্জী। এ ব্যাপারে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের এই মুখ্যমন্ত্রীর ওপর কতটুকু আস্থা রাখা যায় ?

একজন দর্শক বলেন, "মমতা ঢাকায় একটা কথা বলেছেন কিন্তু দিল্লীতে গিয়ে মত বদল করতে পারেন"।

আরেকজন বলেন, "মমতা বাংলাদেশের স্বার্থ দেখবেন- তা হতে পারেনা"।

তবে দর্শকদের মনে মমতা ব্যানার্জির বক্তব্য নিয়ে কিছুটা সংশয় থাকলেও বিএনপি নেতা মাহবুবুর রহমান ও আওয়ামী লীগের ফারুক খান অনেকটা অভিন্ন সুরেই বলেন মমতা ব্যানার্জির অবস্থান ও বক্তব্যে তারা তিস্তার পানি বণ্টনসহঅমীমাংসিত বিষয়গুলোর সমাধানের বিষয়ে আশাবাদী।

ফারুক খান বলেন, “আমি আস্থা রাখতে চাই। কারণ এটা বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তিনি নিশ্চয়ই কেন্দ্রীয় সরকারের সাথে আলোচনা করে ঢাকায় এসেছেন”।

সাখাওয়াত হোসেন বলেন, "মমতা ব্যানার্জি দিল্লিতে যদি কোন প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না করেন তাহলে কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষে সহজ হবে তিস্তা চুক্তিসহ অন্যান্য বিষয়গুলো এগিয়ে নেয়ার ক্ষেত্রে"।

মাহবুবুর রহমান বলেন, “দিল্লিতে আগের সরকারের সময় মমতা ব্যানার্জি নেতিবাচক ভূমিকা পালন করেছেন। কিন্তু বাংলাদেশে এসে যেহেতু বলেছেন আস্থা রাখতে তাই আমি আশাবাদী”।

নাসিম ফেরদৌস বলেন, "মমতা ব্যানার্জির নিজের গদি এখন কতটা শক্ত সেটাও একটা ফ্যাক্টর। তার ওপর আস্থা সৃষ্টি হতে পারে যদি তিনি বাংলাদেশের সাথে চুক্তি সম্পাদনে আর বাধা না দেন"।

বিশ্বকাপে বাংলাদেশ কতদূর যাবে ?

Image caption প্যানেল সদস্য বাঁ থেকে: আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক মন্ত্রী মুহাম্মদ ফারুক খান, সাবেক নির্বাচন কমিশনার ও নিরাপত্তা বিশ্লেষক এম সাখাওয়াত হোসেন, অনুষ্ঠান সঞ্চালক আকবর হোসেন, সাবেক রাষ্ট্রদূত নাসিম ফেরদৌস এবং বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য অবসরপ্রাপ্ত লে জেনারেল মাহবুবুর রহমান।

আজিনুর রহমান জানতে চান ক্রিকেট বিশ্বকাপে বাংলাদেশ কতটুকু যেতে পারবে ?

ফারুক খান বলেন, "বাংলাদেশ একদিন বিশ্বকাপ জয় করবে। তবে এবার হয়তো ফাইনালে যাওয়ার মতো নয়। অস্ট্রেলিয়ার সাথে খেলাটা হলে হয়তো মানটা বোঝা যেতে। আশা করি তারা কোয়ার্টার ফাইনালে খেলবে"।

মাহবুবুর রহমান বলেন, "দেশের সর্বত্র হতাশা। অন্তত এই একটি জায়গায় আমাদের অর্জন বিশাল। গোটা জাতিকে ক্রিকেট ঐক্যবদ্ধ করতে পারি"।

সাখাওয়াত হোসেন বলেন, "ক্রিকেট অনেকদূর এগিয়েছে। বেশ কয়েকজন খেলোয়াড় বিশ্বে সমীহ জাগাচ্ছে। আশা করি তারা ভালো করবে। সুপার এইটে উঠতে পারলে খুশী হবে"।

নাসিম ফেরদৌস বলেন, "এতো অল্প সময়ে দেশ বিশ্বকাপে খেলছে এবং যতদূর যেতে পারে তাতেই তিনি খুশী হবেন"।

একজন দর্শক বলেন, "ফুটবল বিশ্বকাপে সবাই ঘরে ঘরে পতাকা তোলে অথচ এখন বাংলাদেশ খেলছে কিন্তু পতাকা দেখছিনা কেন"?

বিবিসি বাংলাদেশ সংলাপে চলতি সপ্তাহে আলোচিত বিষয়বস্তু সম্পর্কে আপনার কী মতামত?:

আমরা রাজনৈতিক অত্যাচার থেকে মুক্তি চাই, আপনারা বোমাবাজি সমর্থন করেন?

জুবায়ের হোসেন, গাজীপুর

দেশতো আমাদের থেকে অনেক আগেই রাজ বংশের লোকেরা নিয়ে গেছে। আমরাতো লাশ হয়ে বেচেঁ আছি। তাই আমাদের জাতীয় পতাকা চেতনার কাজ করেনা। আমরা লাশের রাজনীতি নিয়ে বেশ ভাল আছি চেতনার ধার ধাড়িনা । আমাদের নেতারা সবার আগে দেশ না বুঝে বুঝেন শুধু হিংসা, যার আগুনে জলছে দেশ জলছে মানুষ।

আব্দুল হক, ঢাকা

৫ই জানুয়ারির নির্বাচনের পর থেকে খালেদা জিয়া বারবার বলেছেন সংলাপ চান কিন্তু সরকারের দিক থেকে তো সাড়া দেয়া হলোনা। বিএনপি যখন আন্দোলন শুরু করলো তখন তখন আওয়ামী লীগ বলছে যে বিএনপি হরতাল বন্ধ করুক। তারপর সংলাপ হতে পারে ?

মো: মনির, কিশোরগঞ্জ

Dialogue always makes sense of humor, humanity, But nothing will come out from Animals .

Shahajada shahin, Dhaka

আমি মনে করি সরকারের উচিৎ খালেদা জিয়ার সাথে আলোচনা করে একটি যৌক্তিক সমাধানে আসা. প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন আমি ক্ষমতা চাইনা, এদেশের মানুষের শান্তি চাই। তো উনি যদি শান্তিই চান তাহলে যার সাথে আলোচনায় বসলে দেশে শান্তি ফিরে আসবে তাকে তার সাথেই আলোচনায় বসতে হবে। মনে রাখা উচিৎ ওনারা এদেশের জনগণের সেবক মালিক নন।

মো.ফয়সাল আহমেদ খান, টাঙ্গাইল

আওয়ামী লিগ ও বিএনপি দু 'দল দাবি করছে জনগন তাদেরকে সমর্থন করছে। কিন্তু তারা কি জানেনা না বুঝেনা যে জনগন কি চায়। তারা কি জানে তারা যে প্রতিদিন বক্তব্য দিচ্ছে তা কতটা হাস্যকর শুনায়। দুই নেত্রী কে দেখি কথা বলেতে গেলে কান্নাকাটি শুরু করে। তারা মনে করে আমরা সবাই বেকুব তারা মহা চালাক।

খায়রুল আলম, কুমিল্লা

আলোচনার মাধ্যমে যদি রাজনৈতিক সমাধান না আসে, তবে সহিংসতার মাধ্যমে কোন সমাধান হয়েছে বলে আমার জানা নাই। বরং সহিংসতা ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাবে গোটা জাতিকে। অতএবঃ সংলাপ, সংলাপ এবং সংলাপ !

গুলজার আহমেদ চৌধুরী, সিলেট

১। যত দিন দুই দলের ঠিক করা তালগাছ কাটা না হবে ততদিনে এর সমাধান হবে না, আর এর সমাধান শেষ হতে পারে সেনা শাসক দিয়ে।

২। বিদেশীরা জনগনের ভোটে নির্বাচিত রাস্ট্রে ব্যবসা করতে চায়। ব্যবসার ক্ষেত্রে অনাগ্রহ দেখাচ্ছে তারা। দেশের উন্নতি চাইলে নির্বাচন জরুরী।

৩। বাংলাদেশ দল যতটা জিততে পারে তাতেই খুশি।

ফাহিম মোনায়েম, ঢাকা

দেশের এই পরিস্থিতির জন্য সরকারকে দায়ী করা যায়। তাদের জন্য দেশের আজ এই অবস্থা । অবৈধভাবে সরকার গঠন করেছে আবার অবৈধ কাজ করছে। কারণ তারা সব সময় বড় বড় কথা বলে। একটা প্রবাদ আছে অল্প পানির মাছ বেশী পানি পেলে আনন্দ এটকু বেশিই করে ফেলে।

মাহবুব রহমান, কুমিল্লা

অনেক হয়েছে আর নয়, হয় আমাদের নিরাপত্তা দিন নতুবা ক্ষমতা ত্যাগ করুন।

মো: দেলোয়ার, ঠাকুরগাঁও

খালেদা জিয়াকে গ্রেফতার করা হলে দেশ আরও সংকটের দিকে যাবে।

খোকনরাজ, সিলেট

Your contact details
Disclaimer

এই খবর নিয়ে আরো তথ্য

চিঠিপত্র: সম্পাদকের উত্তর