ভারতীয় দম্পতির সম্পদ পাবে পোষা বানর

পরিবারের অনুমতি ছাড়া বিয়ে করায় একঘরে হয়ে থাকা এক ভারতীয় দম্পতি তাদের সমুদয় সম্পদ পোষা বানরকে দিয়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

ব্রজেশ শ্রীভাস্তব ও তার স্ত্রী শাবিস্তা বিবিসিকে বলেছেন ২০০৫ সালে পাঁচশ রুপিতে ‘চুনমুন’ কে কেনার আগে তারা ছিলেন একেবারেই একা।

চুনমুন তাদের আদরের বানরটির নাম। চুনমুনকে দুধ, ফল ও ঘরে তৈরি খাবার খাওয়ানো হয়।

গ্রীষ্মে চুনমুন শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত রুমে আর শীতে তার কক্ষ উষ্ণ করার জন্য থাকে রুম হিটার।

২০১০ সালে ধুমধাম করে চুনমুনের বিয়ে দেয়া হয় বিত্তি যাদব নামক আরেকটি মেয়ে বানরের সাথে।

এরপর থেকে চুনমুন দম্পতি ব্রজেশ দম্পতির সাথেই বসবাস করতে থাকে। প্রতি বছর ঘটা করে পালিত হয়ে বানর দম্পতির বিয়েবার্ষিকী।

নি:সন্তান এ দম্পতি বলেছেন তারা বানরটিকে ছেলের মতো করেই বড় করেছেন।

মিস্টার শ্রীভাস্তব হিন্দু কিন্তু তার স্ত্রী মুসলিম। ভারতের বহু জায়গাতেই এ ধরণের বিয়ে নিয়ে বিতর্ক হয়ে থাকে।

এ দম্পতির ক্ষেত্রেও তাই হয়েছে। বিয়ের পর নিজ পরিবারের দরজাও তাদের জন্য বন্ধ হয়ে যায়।

চুনমুনকে কেনার আগে তারা কার্যত একঘরেই ছিলেন।

শাবিস্তা বলেন, “সে ছিল শিশু। বয়স ছিল একমাসেরও কম। তার মা বিদ্যুতপৃষ্ট হয়ে মারা গিয়েছিলো”।

মিস্টার ব্রজেশ বলেন চুনমুনকে আনার পর থেকে তার ব্যবসা ও পরিবারের উন্নতি হতে থাকে।

উত্তর প্রদেশের রায়বেরিলিতে ব্রজেশ দম্পতির বাড়িটির নামকরণ করা হয়েছে চুনমুনের নামেই।

একবার লোকজনকে কামড়ানোর পর চুনমুনকে নিয়ে চিকিৎসকের দ্বারস্থ হয়েছিলো ব্রজেশ দম্পতি। পরে অবশ্য তার দাঁত সমান করে দেয়া হয় যাতে সে কাউকে কামড় দিতে না পারে।

ভারতে সাধারণত অর্থ উপার্জনের জন্য অনেকে বানর রাখলেও পোষা প্রাণী হিসেবে বানর পালনের ঘটনা খুবই কম।

চিঠিপত্র: সম্পাদকের উত্তর