বাংলাদেশের মানিকগঞ্জে লঞ্চডুবিতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬৯

Image caption ডুবে যাওয়া লঞ্চটিকে তীরে আনা হয়েছে। ফটো- আহরার হোসেন।

বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার অদূরে মানিকগঞ্জের পদ্মা নদীতে পাটুরিয়া - দৌলতদিয়া নৌ-রুটে যাত্রীবাহী লঞ্চ ডুবির ঘটনায় আজ ভোর পর্যন্ত মোট ৬৯টি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

ভোর প্রায় চারটার দিকে উদ্ধারকারী জাহাজ রুস্তম ডুবে যাওয়া লঞ্চটিকে তীরে টেনে তুলতে সক্ষম হয়।

এরপর লঞ্চের ভেতর থেকে নতুন করে ২৮টি মৃতদেহ বের করে আনা হয়।

ঘটনাস্থল থেকে বিবিসির সংবাদদাতা আহরার হোসেন জানান নিহতদের মধ্যে অন্তত ১৪টি শিশু রয়েছে।

সকাল সাড়ে দশটার দিকে উদ্ধার তৎপরতার প্রাথমিক সমাপ্তি ঘোষণা করেছে স্থানীয় প্রশাসন।

তবে এখনো অনেকে নিখোঁজ রয়েছেন বলে তাদের স্বজনরা দাবি করছেন।

ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরীরা অনুসন্ধান অব্যাহত রাখবেন বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

বিবিসি'র আহরার হোসেন জানান জেলা প্রশাসক রাশিদা ফেরদৌস এক ব্রিফিং এ বলেছেন দুটি নৌযানের চালকের অপরিণামদর্শী প্রতিযোগিতার কারণেই এ দুর্ঘটনা হয়েছে।

Image caption স্বজন হারানোর কান্না। ফটো- ফোকাস বাংলা

এ পর্যন্ত তিনটি পরিবারের তিনজন নিখোঁজ রয়েছে বলে কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

এর আগে রোববার মধ্যরাত পর্যন্ত ৪১টি মৃতদেহ পাওয়ার তথ্য দিয়েছিলেন জেলা প্রশাসক রাশিদা ফেরদৌস ও পুলিশ সুপার বিধান বিধান ত্রিপুরা।

স্থানীয় সাংবাদিক বি এম খোরশেদ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে আজ সকালের অধিবেশিনে বিবিসি বাংলাকে বলেছেন উদ্ধারকারী জাহাজ রুস্তম ডুবে যাওয়া লঞ্চটিকের তীরে আনার পর সেটিকে পাটুরিয়ায় ৫ নাম্বার ফেরিঘাটে রাখা হয়েছে।

তিনি জানান লঞ্চের ভেতর থেকে আরও ২৪টি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ নিয়ে তখন পর্যন্ত মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে মোট ৬৫টি। এর মধ্যে অন্তত ৩৫টি মরদেহ তাদের স্বজনরা সনাক্ত করেছে এবং ৩১টি ভোরের মধ্যেই তাদের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

মিস্টার খোরশেদ জানান এখনো যারা নিখোঁজ রয়েছেন তাদের কোন তালিকা তৈরি করা যায়নি। উদ্ধার তৎপরতা শেষ হলে সেটি করা যাবে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। ঘটনাস্থলে বহু মানুষ ভিড় করেছে তাদের স্বজনদের খোঁজে।

গতকাল নার্গিস নামের একটি কার্গোর ধাক্কায় ওই লঞ্চটি ডুবে যায়।

জেলার শিবালয় উপজেলা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদ জানিয়েছিলেন, রোববার সকাল সোয়া ১১টার দিকে পদ্মা নদীতে ওই দুর্ঘটনা ঘটে।

তিনি জানান বাঘা থেকে পাটুরিয়া থেকে দৌলতদিয়াগামী ‘এমভি মোস্তফা’ নামের ওই লঞ্চটিকে পাশ থেকে একটি কার্গো ধাক্কা দিলে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

লঞ্চটিতে ৮০ থেকে ৯০ জন যাত্রী ছিল।

তবে এর মধ্যে দুর্ঘটনার পরপরই কিছু যাত্রী সাতরিয়ে তীরে উঠতে সক্ষম হয় বলে তিনি জানান।

তবে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত এখনও অনেকে নিখোঁজ রয়েছেন।

চিঠিপত্র: সম্পাদকের উত্তর