প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা হ্রাসের প্রস্তাব বাস্তবসম্মত নয়: এইচ টি ইমাম

Image caption একজন দর্শক

বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ইনাম আহমেদ চৌধুরী বলেছেন রাজনৈতিক সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচন হলে প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা হ্রাস করতেই হবে।

তবে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম বলেছেন নির্বাচনকালীন সরকারের প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা খর্বের প্রস্তাব বাস্তবসম্মত নয়।

তবে বিবিসি বাংলাদেশ সংলাপে তারা দুজনই ভোটের অনুপাতে আসন বণ্টন পদ্ধতির বিষয়ে আলোচনার শুরু করার যেতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন।

এছাড়া নির্বাচন কমিশনকে শক্তিশালী করতে করণীয় ও দলগুলোর নির্বাচনী ব্যয়ে স্বচ্ছতার বিষয়গুলোও আলোচনায় উঠে আসে।

বাংলাদেশ সংলাপের এবারের পর্বের বিষয়বস্তু ছিল নির্বাচনী ব্যবস্থার সংস্কারে কি করা দরকার ।

এতে নির্বাচন কমিশনকে শক্তিশালী করতে কি পদক্ষেপ নেয়া দরকার এমন এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রীর রাজনীতি বিষয়ক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম বলেছেন কমিশনকে শক্তিশালী করতে সরকার ইতোমধ্যেই অনেক ব্যবস্থা নিয়েছে।

তিনি বলেন, “নির্বাচন কমিশনের বিশাল পরিবর্তন এসেছে। এখন তাদের অর্থের জন্য সরকারের কাছে যেতে হয়না। বাজেটে বরাদ্দ দেয়া হয় এবং সেটি তারা নিজেরাই ব্যয় করেন। আগে তাদের নিজস্ব কর্মকর্তা ছিলনা। ফলে তারা দুর্বল ছিলেন। এ কাজটিও করে দেয়া হয়েছে”।

অপর এক প্রশ্নে মিস্টার ইমাম নির্বাচন কালীন সরকারের প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা হ্রাসের বিষয়টিকেও বাস্তব সম্মত নয় বলে মন্তব্য করেন ।

তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা যাকে দেবেন তিনিই তো প্রধানমন্ত্রীর তো কাজ করবেন। সশস্ত্র বাহিনী প্রধানমন্ত্রীর হাতে, আপনি কি চাইবেন সেটি নির্বাচন কমিশন খবরদারি করুক?”

তবে বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ইনাম আহমেদ চৌধুরী বলেন সবার জন্য সমান পরিবেশ তৈরি করতে হলে প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা কমানোর বিকল্প নেই।

Image caption দর্শক

তিনি বলেন নির্বাচন কমিশনকে শক্তিশালী করার কথা সরকার বললেও কমিশনের উপর বিরোধী দল বিএনপি ও জনগণের কোন আস্থা নেই।

মিস্টার চৌধুরী বলেন, “বর্তমান নির্বাচন কমিশন ভোটার বা জনগণের আস্থা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে। এখানে পরিবর্তন আনা প্রয়োজন। সরকার ও দল ও জনগণের ইচ্ছে থাকবে যে তারা যেন নিরপেক্ষ হন”।

আলোচনায় অংশ নিয়ে সাবেক নির্বাচন কমিশনার অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তন না হলে নির্বাচন কমিশনকে শক্তিশালী করা কঠিন হবে বলে মনে করেন তিনি।

তিনি বলেন, “রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে উচ্চমাগের্র সংস্কৃতি হলে, গণতান্ত্রিক পদ্ধতি চালু থাকলে ও নর্ম যদি সবই মানে তাহলে কমিশন শক্তিশালী হবে। প্রথমে একটা নিয়োগ পদ্ধতি করতে হবে”।

অপর প্যানেল আলোচক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক কাবেরী গায়েন বলেন চিরকাল ক্ষমতায় আঁকড়ে থাকার প্রবণতার কারণেই নির্বাচন নিয়ে কোন পদ্ধতিই বাংলাদেশে কার্যকর হওয়া কঠিন।

তিনি বলেন, “ব্যক্তি কতদূর করতে পারবে তার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো নির্বাচন কমিশনের সাথে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছে কি-না”।

তবে সংলাপের এ পর্বে নির্বাচন কমিশন ও নির্বাচনী ব্যবস্থার নানা বিষয় নিয়ে বিতর্ক হলেও ভোটের অনুপাতে জাতীয় সংসদে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আসন বণ্টনের পদ্ধতি বাংলাদেশেও চালু করা উচিত কি-না , এমন প্রশ্নে প্যানেল আলোচকদের প্রায় সবাই বলেন বাংলাদেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে এ ধরনের পদ্ধতি আরও কার্যকর হতে পারে।

তাই এ ধরনের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা শুরু করা যেতে পারে বলেই মনে করেন তারা।