বাংলাদেশ হয়ে চালু হচ্ছে আগরতলা-কলকাতা বাস সার্ভিস

Image caption কলকাতা এবং ঢাকার মধ্যে সরাসরি বাস সার্ভিস চলছে বেশ কয়েক বছর ধরে।

কলকাতা থেকে বাংলাদেশের মধ্যে দিয়ে ত্রিপুরার রাজধানী আগরতলা পর্যন্ত যাত্রী পরিবহন শুরু করতে চলেছে ভারত।

কয়েকদিনের মধ্যেই ভারত আর বাংলাদেশ এই নতুন যাত্রী বাস পরিবহনের চূড়ান্ত চুক্তি সই করবে।

আগরতলা থেকে আসাম ঘুরে কলকাতা পৌঁছতে প্রায় ১৬০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে হয়। তবে বাংলাদেশের মধ্যে দিয়ে এই রাস্তা মাত্রই ৫০০ কিলোমিটারের সামান্য বেশী।

কয়েকদিনের মধ্যেই খুব কম সময়ে, সামান্য খরচেই ত্রিপুরার মানুষ আগরতলা থেকে ঢাকা হয়ে কলকাতায় চলে আসতে পারবেন।

নিয়মিত যাত্রা শুরু করার আগে পয়লা জুন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পরিবহন সচিব আলাপন ব্যানার্জীর নেতৃত্বে সরকারী কর্মকর্তাদের একটি দল এই নতুন বাস রুটটির ট্রায়াল রানে যাবেন।

মি: ব্যানার্জী বিবিসিকে বলেন, কলকাতার কাছে সল্টলেক-এ অবস্থিত আন্তর্জাতিক বাস টার্মিনাল থেকে সন্ধ্যা বা রাতে রওনা হয়ে পেট্রাপোল-বেনাপোল সীমান্ত পেরিয়ে মাগুড়া দিয়ে ঢাকা যাওয়া হবে।

Image caption পেট্রাপোল-বেনাপোল সীমান্ত হয়ে যাবে আগরতলা থেকে কলকাতা বাস।

“পরের দিন সকালে ১১টা নাগাদ আখাউড়া সীমান্ত পেরিয়ে যাত্রীরা আগরতলায় পৌঁছবেন, এরকমই ভাবা হয়েছে,” বলছিলেন মি: ব্যানার্জী।

কলকাতা থেকে ঢাকা আর আগরতলা থেকে ঢাকা, এই দুটি রুটেই যাত্রী বাস চলে নিয়মিত।

অনেকেই এই দুটি রুট ব্যবহার করে আগরতলা থেকে কলকাতা আসেন, কিন্তু সেক্ষেত্রে তাঁদের ঢাকায় বাস বদল করতে হয়।

নতুন রুটটি চালু হলে একটি বাসেই কলকাতা থেকে আগরতলা পৌঁছন যাবে।

বাংলাদেশের মধ্যে দিয়ে পরিবহনের ট্রানজিট চেয়ে আসছে ভারত অনেকদিন ধরেই।

কিন্তু তিস্তার জলবন্টন চুক্তি বা স্থল সীমান্ত চুক্তি সম্পাদিত হওয়ার আগে ভারতকে নিয়মিত ট্রানজিট দিতে রাজী হয় নি বাংলাদেশ।

ভারতের পার্লামেন্ট প্রায় চার দশক পরে সংবিধান সংশোধন করেছে যার ফলে এখন স্থল সীমা চুক্তির মাধ্যমে ছিটমহল বিনিময় শুধু সময়ের অপেক্ষা।

তিস্তার জলবন্টন নিয়ে জটিলতা যদিও এখনো কাটে নি, যাত্রী পরিবহনের জন্য বাংলাদেশের রাস্তা ব্যবহার করার অনুমতি পেতে চরেছে ভারত।