বাংলাদেশে বিয়ের বয়স না কমানোর সিদ্ধান্ত নিল সরকার

Image caption বাল্য বিয়ে বন্ধে সরকার মেয়ে শিশুদের শিক্ষার সুযোগকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে

শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশে বিয়ের বয়স না কমানোর পক্ষেই সিদ্ধান্ত নিল সরকার। মহিলা বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ জানিয়েছেন, বিয়ের ন্যূনতম বয়স ১৮ বছরই থাকছে।এই আইনে কোন পরিবর্তন করা হচ্ছে না।

এর আগে সরকার এটি কমিয়ে ১৬ বছর করার চিন্তাভাবনা করছে- এমন খবরে নারী অধিকার কর্মীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন। তারা বলেছিলেন, এর ফলে বাল্য বিয়েকেই উৎসাহ যোগানো হবে।

তবে সরকারের মহিলা বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ বিবিসি বাংলাকে বলেন, এ বিষয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট। বিয়ের বয়স ১৮ বছর থেকে কমানো হচ্ছে না।

বাংলাদেশে দারিদ্র, নিরাপত্তার অভাব এবং ধর্মীয় রক্ষণশীলতার কারণেই বাল্য বিয়ের হার বেশি বলে ধারণা করা হয়। ১৮ বছরের আগে বিয়ে আইনত নিষিদ্ধ হলেও বাংলাদেশে ৬৪ শতাংশ মেয়েরই এর আগে বিয়ে হয়ে যায়।

সরকার অবশ্য দাবি করছে এই হার দ্রুত কমে আসছে।

মেহের আফরোজ জানিয়েছেন, বিয়ের ন্যূনতম বয়স ১৮ বছর বহাল থাকলেও এই আইনে একটি ধারা যুক্ত করার কথা তারা ভাবছেন। এর উদ্দেশ্য ১৮ বছর হওয়ার আগেই বাংলাদেশের সমাজে একটি মেয়েকে নিরাপত্তাহীনতা থেকে শুরু করে আরও যেসব সমস্যার মুখে পড়তে হয় সেসবের মোকাবেলা।

তিনি বলেন, উন্নত অনেক দেশে বিয়ের বয়স ১৮ বছর হলেও সেখানে সেই বয়সে পৌঁছানোর আগেই অনাকাঙ্খিত গর্ভধারণ থেকে শুরু করে আরও অনেক সমস্যার মুখে পড়তে হয় তাদের।

তবে বাংলাদেশ সরকারও এধরণের সমস্যার কথা মাথায় রেখে বিয়ের বয়স কমানোর কথা ভাবছিল কিনা- সে প্রশ্নের উত্তর তিনি এড়িয়ে যান।