#প্যারিস: সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্যারিস হামলা

প্যারিসে সন্ত্রাসী হামলার পর সময় গড়ানোর সাথে সাথে ঘটনাটি সম্পর্কে ধারণাও কিছুটা পরিষ্কার হতে শুরু করছে। অন্যান্য অনেক ঘটনার মতো ভয়াবহ এই হামলার বিষয়েও গণমাধ্যমের পাশাপাশি সরব বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম।

সাধারণ সময়ে যখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সেলফি, বেড়ানোর ছবি এবং অর্থহীন তর্ক-বিতর্কের ক্ষেত্র, তখন বিশ্বকে নাড়া দেয়া কোন দুর্যোগ কিংবা হামলার ঘটনায় এসংক্রান্ত সংবাদ প্রবাহের বড় মাধ্যম হয়ে দাড়ায় ফেসবুক বা টুইটার।

বিবিসির প্রযুক্তিবিষয়ক সংবাদদাতা ডেভ লি বলছেন, এসব সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের পোস্টের সাথে অবধারিতভাবেই ছড়িয়ে পড়ছে বিভিন্ন ভুল তথ্য, অবিবেচনাপ্রসূত মতামত এবং ঘৃণা ছড়ানোর মতো কথাবার্তা।

ছবির কপিরাইট Facebook
Image caption সেফটি চেক অপশনটি চালু করেছে ফেসবুক

সামাজিক মাধ্যমের শক্তি

প্যারিস হামলার সংবাদ আসার পর খুব দ্রুতই ফেসবুক তাদের সেফটি চেক অপশনটি চালু করে। এই টুলের মাধ্যমে স্বজন এবং বন্ধু-বান্ধবেরা তাদের প্রিয়জনরা নিরাপদ আছেন কিনা জানতে পারছেন। প্রথমবার এই ফিচারটি ব্যবহার করা হয়েছিল নেপালে ভূমিকম্পের পর। টুইটারে #porteouverte হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করে আক্রান্ত মানুষদের জন্য নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা করছেন প্যারিসবাসী।

হামলার ভয়াবহতা

প্রথাগত গণমাধ্যমের পাশাপাশি রেডিটের মতো নতুনধারার সংবাদমাধ্যমও হামলার খবরাখবর দিয়ে যাচ্ছে। ইন্সটাগ্রামে বাটাক্লঁ কনসার্ট হলে কনসার্টের একটি ছবি আপলোড করা হয়েছিল। ঐ কনসার্টেই ১০০ জনেরও বেশি মানুষকে হত্যা করা হয়। তবে এরপর সেই ইনস্টাগ্রাম একাউন্টটি আর আপডেট করা হয়নি।

কনসার্ট হলের ভেতর থেকে দেয়া ফেসবুকের একটি স্ট্যাটাসে বর্ণনা করা হয়েছে যে কিভাবে বন্দুকধারীরা একের পর এক মানুষকে হত্যা করে যাচ্ছে।

সামাজিক মাধ্যম নৃশংসতা নিউজফিডে এমন কিছু চিত্র তুলে আনছে, যেগুলো হয়তো গণমাধ্যমে দেয়া সম্ভব হতো না।

ছবির কপিরাইট Other
Image caption আইফেল টাওয়ারসহ এই শান্তির চিহ্নটি অনেকে সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করছেন

মিথ্যা প্রচারণা

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি টুইট শেয়ার করা হচ্ছে, যেখানে তিনি বলেছিলেন যে ফ্রান্সের কঠোর অস্ত্র আইনের কথা। যদিও ঐ টুইটটি তিনি করেছিলেন শার্লি এবদো হামলার সময়, কিন্তু সেটি এই হামলার প্রতিক্রিয়া হিসেবে উল্লেখ করে সমালোচনা চলছে। অন্যদিকে কেউ কেউ ক্যালের শরণার্থী শিবিরে ‘প্রতিশোধমূলক হামলার’ কথা প্রচার করছে। কিন্তু দেখা গেছে একটি বৈদ্যুতিক গোলোযোগের কারণে শিবিরে একটি অগ্নিকাণ্ড ঘটেছিল। নিহতদের স্মরণে আইফেল টাওয়ারের বাতি নিভিয়ে দেয়ার একটি ছবিও সামাজিক মাধ্যমে ঘুরপাক খাচ্ছে। যদিও আসল ঘটনা হলো বিদ্যুৎ সাশ্রয় করার জন্য প্রতিরাতেই আইফেল টাওয়ারের বাতি নিভিয়ে দেয়া হয়।