অভিবাসী সঙ্কট : ইইউ তুরস্ক চুক্তির পথে বহু অন্তরায়

ছবির কপিরাইট Reproducao
Image caption গ্রিসের দ্বীপগুলোতে তুরস্ক হয়ে আসা অবৈধ অভিবাসীদের স্রোত নিয়ে বিপর্যস্ত ইউরোপ।

গ্রিসের দ্বীপগুলোতে তুরস্ক হয়ে আসা অভিবাসীদের স্রোত কীভাবে থামানো যায়, তা নিয়ে আলোচনার জন্য ইউরোপীয় নেতারা আজ বৃহস্পতিবার ব্রাসেলসে এক শীর্ষ বৈঠকে বসছেন।

ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড টাস্ক স্বীকার করছেন যে এই আলোচনা খুব সহজ হবে না।

অভিবাসী এবং শরণার্থীদের স্রোত থামানোর জন্য তুরস্ক সাহায্য করতে রাজী, কিন্তু বিনিময়ে তারা শেংগেন চুক্তির অধীন ইউরোপীয় দেশগুলোতে তুর্কী নাগরিকদের ভিসা ছাড়া ঢুকতে দেওয়ার দাবি জানাচ্ছে।

আলোচনার টেবিলে এ নিয়ে অনেক ইউরোপীয় দেশ তীব্র আপত্তি জানাতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

কিছুদিন আগে অর্থ, ব্যবসায়িক সুবিধা এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্যপদ ত্বরান্বিত করাসহ বেশ কিছু শর্তে রাজি হয়ে ইউরোপীয় নেতারা তুরস্কের সাথে একটি বোঝাপড়া করেছেন।

আজকের বৈঠকে সেটাই চূড়ান্ত করতে চাইছেন তারা। চুক্তি হলে, তাদের উপকূল থেকে অভিবাসীরা যেন গ্রিসের উদ্দেশ্যে রওয়ানা না হতে পারে, তুরস্ক তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করবে।

ছবির কপিরাইট Reuters
Image caption তুরস্ক ইইউ শীর্ষ বৈঠকে জড়ো হচ্ছেন ইউরোপীয় নেতারা

এছাড়া, অবৈধভাবে গ্রিসে পৌঁছানো অভিবাসীদের ফেরত নেবে তুরস্ক। বদলে তুরস্কের ভেতরে বিভিন্ন শিবির থেকে বৈধ উপায়ে সমান সংখ্যক শরণার্থী নেবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন।

কিন্তু ব্রাসেলসের এই শীর্ষ বৈঠকের আগে ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড টাস্ক স্বীকার করেছেন তুরস্কের সাথে বোঝাপড়া চূড়ান্ত করা সহজ হবেনা। ডোনাল্ড টাস্ক বলছেন মীমাংসা একটি জটিল পর্যায়ে পৌঁছুচ্ছে। তিনি বলেন, যে বোঝাপড়াই হোক তা অবশ্যই কিছু মৌলিক নীতির ভিত্তিতে হতে হবে। এক, এই চূক্তিতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৮টি সদস্য দেশের সম্মতি থাকতে হবে, এবং দুই- চুক্তি ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং আন্তর্জাতিক আইনের ভিত্তিতেই হতে হবে।

ছবির কপিরাইট EPA
Image caption বিক্ষোভকারীদের দাবি প্রস্তাবিত চুক্তি মানবাধিকার লংঘনের সামিল।

কিন্তু সমস্যা হচ্ছে, অনেকে এমনকী জাতিসংঘ পর্যন্ত বলছে, গ্রিস থেকে জোর করে যদি অভিবাসীদের তুরস্কে আনার চেষ্টা হয় তাহলে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন ভঙ্গ করা হবে।

জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক বিশেষ র‍্যাপোর্টিয়ার ফ্রাঁসোয়া ক্রেপো বলছেন, ইউরোপীয় আদালত তুরস্ককে একটি নিরাপদ দেশ হিসাবে বিবেচনা করবে, সেটা তিনি মনে করেন না। হয়ত দু এক বছরের মধ্যে কোনো আদালত রায় দেবে যে গড়পড়তা সবাইকে জোর করে তুরস্কে ফেরত পাঠানোর ফলে ইউরোপীয় মানবাধিকার আইন ভঙ্গ হয়েছে।

শুধু মানবাধিকারের প্রশ্নই নয়। অর্থ বিষয়ক সুবিধা নিয়েও তুরস্ক যে চুক্তিমত কাজ করবে ইউরোপের অনেক দেশ সে বিষয়ে সন্দিহান।

এছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়নে তুরস্কের সদস্যপদের আবেদন ত্বরান্বিত করার যে প্রতিশ্রুতি চুক্তিতে থাকছে, তা নিয়ে ইইউ-এর অধিকাংশ সদস্য দেশের আপত্তি রয়েছে।

চিঠিপত্র: সম্পাদকের উত্তর