নাজিমুদ্দিনকে নিয়ে পরিবার শংকায় থাকতো

nazimuddin ছবির কপিরাইট bbc
Image caption ফেসবুকে নাজিম উদ্দিনের একটি স্টেটাস

বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার রাস্তায় বুধবার রাতে হত্যাকাণ্ডের শিকার নাজিমুদ্দিন সামাদের লন্ডন-প্রবাসী বড় ভাই শামিম উদ্দিন বিবিসিকে বলেছেন, ভাইয়ের নিরাপত্তা নিয়ে তাদের আশঙ্কা ছিল।

শামিম উদ্দিন বলেন, ফেসবুকে লেখালেখি না করতে প্রায়ই তাকে বারণ করতেন তিনি।

"সে ঠিক কি লিখতো আমি নিজে কখনো পড়িনি, কিন্তু আত্মীয়দের মুখে শুনেছি সে ধর্ম নিয়ে লিখতো। টেলিফোনে কথা হলেই নিষেধ করতাম"।

পরিবারের চাপে ফেসবুক একাউন্ট কিছুদিন বন্ধও রেখেছিলেন নাজিমউদ্দিন।

তবে বড় ভাইদের কাছে নিজের নিরাপত্তা নিয়ে কখনো তেমন কোনো শঙ্কা প্রকাশ করেননি ।

সিলেটে তার ছেলেবেলার একজন বন্ধু গোলাম রাব্বি চৌধুরীও জানিয়েছেন, নাজিমুদ্দিন কিছুদিন তার ফেসবুক একাউন্ট 'ডি-অ্যাকটিভেট' করে রেখেছিলো।

বিবিসিকে তিনি বলেন, "ফেব্রুয়ারি মাসে তার সাথে আমার শেষ দেখা হয়, তখন আমি, তাকে ঠাট্টা করে বলেছিলাম কি রে তোর বিপ্লব বন্ধ হয়ে গেল...সে বলেছিলো তাড়াতাড়ি আবার ফেসবুকে ফিরে আসবে।"

Image caption ফেসবুকে নাজিম উদ্দিনের একটি স্টেটাস। পরিবারের চাপে কিছুদিন বন্ধ রেখেছিলেন ফেসবুক অ্যাকাউন্ট।
কি লিখতেন নাজিমুদ্দিন?

নাজিমুদ্দিন কোনো ব্লগ সাইটে নিয়মিত লেখালেখি করতেন না। তার লেখালেখি ছিল মূলত তার ফেসবুক পাতায়।

ফেসবুকে সাম্প্রতিক তার কিছু স্টেটাসে দেখা গেছে ধর্মান্ধতা এবং ইসলামের কট্টর ব্যাখ্যা নিয়ে খোলাখুলি সমালোচনা রয়েছে। অনেক লেখায় জামাত-শিবিরের রাজনীতি নিয়েও সমালোচনা করেছেন তিনি।

মার্চের ২৮ তারিখে একটি স্টেটাসে নাজিমুদ্দিন লিখেছিলেন, " রাষ্ট্রধর্ম দেখে কেউ করিস না ভয়, আড়ালে তার ইসলামী জঙ্গি হাসে।" ইসলামকে রাষ্ট্র ধর্ম করার বিরুদ্ধে পিটিশনটি সুপ্রিম কোর্টে খারিজ হওয়ার প্রতিক্রিয়ায় তিনি সম্ভবত এই স্টেটাসটি লিখেছিলেন।

মার্চের ৩০ তারিখে দীর্ঘ একটি স্টেটাসের অংশবিশেষ ছিল এরকম : "শুধু একবার পাঁচ বছরের জন্য পরীক্ষামুলকভাবে দেশে শারিয়াহ আইন চালু করা হোক....গ্যারান্টি দিয়ে বলতে পারি পাঁচ বছর পর কোনো মুসলিম ইহজীবনে আর ইসলামের নাম মুখে আনবে না...।

সিলেটে বঙ্গবন্ধু যুব পরিষদ নামে একটি সংগঠনের সাথে নাজিম উদ্দিন জড়িত ছিলেন। এছাড়া, সিলেটে গণজাগরণ মঞ্চের সাথেও সক্রিয় ছিলেন তিনি।

অসুস্থ মাকে দেখতে যাওয়ার পথে খুন ?

নাজিমুদ্দিনের ভাই শামিম উদ্দিন জানান, মঙ্গলবার টেলিফোনে তিনি জানিয়েছিলেন বুধবার অসুস্থ মাকে দেখতে তিনি গ্রামে যাবেন।

"আমাদের বাবা নাই, আমরা দুই ভাই লন্ডনে। দুই বোন এবং অসুস্থ মাকে দেখাশোনার জন্য তার ওপরই আমরা ভরসা করতাম।"

ভাইয়ের মৃত্যুর জন্য কাকে দায়ী করেন তিনি? এই প্রশ্নে দীর্ঘশ্বাস ফেলে শামিম উদ্দিন বলেন, "যারা মেরেছে তাদেরই দায়ী করবো...ইসলাম তো নষ্ট হয়না, মানুষ নষ্ট হয়।"

নাজিমুদ্দিনের বড় দুই ভাইয়ের এক ভাই বুধবার রাতেই বাংলাদেশ রওয়ানা হয়ে গেছেন।

মা এবং বোনরা থাকেন সিলেটের বিয়ানীবাজারের মাটিজুয়া গ্রাম। ময়দা তদন্তের পর পরিবারে সেখানেই তাকে দাফনের পরিকল্পনা করেছে।