নিজামীর রিভিউ খারিজ, মৃত্যুদণ্ডাদেশ বহাল

motiur_rahman_nizami ছবির কপিরাইট AFP
Image caption জামায়াতে ইসলামী নেতা মতিউর রহমান নিজামী---ফাইল ফটো

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে জামায়াতে ইসলামীর নেতা মতিউর রহমান নিজামীর মৃত্যুদণ্ডাদেশ বহাল রেখে রায় পুন:বিবেচনার আবেদন খারিজ করে দিয়েছে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।

প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের চার সদস্যের বেঞ্চ এই আদেশ দেন।

এই রায়ের মধ্য দিয়ে নিজামীর বিরুদ্ধে এ মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হলো।

রায় পরবর্তী এক সংবাদ সম্মেলনে এ্যটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম জানিয়েছেন, আজ এ মামলার আইনগত প্রক্রিয়া শেষ হয়ে গেল।

ছবির কপিরাইট EPA
Image caption রায় প্রদানকে কেন্দ্র করে আদালত চত্বর এবং শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে

এখন মামলার আদেশ কারা কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে।

আসামী পক্ষ চাইলে রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমাভিক্ষা চাইতে পারেন।

তবে ক্ষমা ভিক্ষা না চাইলে জেল কর্তৃপক্ষ দণ্ড কার্যকরের ব্যবস্থা করবে। সেক্ষেত্রে দণ্ড কার্যকরের দিনক্ষণ সরকার ঠিক করবে।

কাঠগড়ায় নিজামী

মতিউর রহমান নিজামীর বিচারের কালক্রম

  • ২রা অগাস্ট, ২০১০ মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গ্রেফতার

  • ২৮শে মে, ২০১২ ট্রাইব্যুনালে বিচার শুরু

  • ৫ই মে, ২০১৬ আপিল বিভাগে রিভিউ খারিজ

  • ১১ই মে, ২০১৬ ফাঁসিতে ঝুলিয়ে দন্ড কার্যকর

AFP

এদিকে, এই রায়ের প্রতিবাদে রোববার সকাল ৬টা থেকে সোমবার সকাল ৬টা পর্যন্ত দেশব্যাপী হরতালসহ তিনদিনের কর্মসূচী ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

ছবির কপিরাইট AP
Image caption ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেওয়ার অভিযোগে করা একটি মামলায় ২০১০ সালের ২৯ জুন নিজামীকে গ্রেপ্তার করা হয়

দলটির ভারপ্রাপ্ত আমীর মকবুল আহমাদ ও ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল শফিকুর রহমান এক যুক্ত বিবৃতিতে এ ঘোষণা জানিয়েছেন।

এদিকে, এই রায়ে আনন্দ প্রকাশ করেছে শাহবাগে গণজাগরণ মঞ্চের কর্মী ও সংগঠকেরা।

রায় প্রদানকে কেন্দ্র করে আদালত এলাকাসহ ঢাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

গত ২৯ শে মার্চ মি. নিজামী রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন করেন।

এরপর ৩রা মে সেটির শুনানি সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে শেষ হয়।

হত্যা, গণহত্যা এবং বুদ্ধিজীবী হত্যার দায়ে ২০১৪ সালের অক্টোবরে মি. নিজামীকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

ঐ রায়ের বিরুদ্ধে মি. নিজামী আপিল করার পর, গত ৬ই জানুয়ারি ট্রাইব্যুনালের দেয়া দণ্ড বহাল রাখে আপিল বিভাগ।

ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেওয়ার অভিযোগে করা একটি মামলায় ২০১০ সালের ২৯ জুন নিজামীকে গ্রেপ্তার করা হয়।