মতিউর রহমান নিজামীর মৃতদেহ পাবনার পথে

নিজামীর মৃতদেহ ছবির কপিরাইট BBC Bangla
Image caption ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে অ্যাম্বুলেন্সে করে মি. নিজামীর মৃতদেহ নিয়ে যাওয়া হচ্ছে

বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াতে ইসলামীর আমীর- মতিউর রহমান নিজামীর মৃতদেহ কড়া পুলিশী প্রহরায় পাবনায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

পাবনার সাথিয়ায় মি. নিজামীর গ্রামের বাড়িতে তার মৃতদেহ দাফন করার কথা রয়েছে।

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে দিবাগত রাত পৌনে দুটায় একটি অ্যাম্বুলেন্সে করে মি. নিজামীর মৃতদেহ বের করা হয়।

এর আগে দিবাগত রাত ১২টা দশ মিনিটে মি. নিজামীর ফাঁসি কার্যকর হয়।

বিকেল থেকেই কেন্দ্রীয় কারাগার এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়, এবং জল্লাদদের ভেতরে নিয়ে যাওয়া হয়। কারাগারের ভেতরে যান ঢাকার সিভিল সার্জন ও জেলা প্রশাসক। সন্ধ্যায় মি. নিজামীর পরিবারের সদস্যরা কারাগারে গিয়ে তার সাথে দেখা করেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান সংবাদমাধ্যমকে জানান, মতিউর রহমান নিজামী রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা চান নি, ফলে রায় কার্যকরের জন্য 'কর্তৃপক্ষ প্রস্তুত'।

এর পরই ঢাকায় কেন্দ্রীয় কারাগারের সামনে প্রচুর লোকজন এবং সংবাদকর্মীদের ভিড় জমতে থাকে।

১৯৭১ সালের স্বাধীনতাযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল মি. নিজামীকে মৃত্যুদন্ড দেয়।

ছবির কপিরাইট AFP
Image caption ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের বাইরে সন্ধ্যা থেকেই ছিল কড়া নিরাপত্তা।

এর পর রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ খারিজ করে দেয় এবং রায়ের পূর্ণাঙ্গ কপি প্রকাশের পর আদালতের সব প্রক্রিয়া শেষ হয়ে যায়।

এর পর মি. নিজামীর সামনে একমাত্র রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা চাওয়ার সুযোগই অবশিষ্ট ছিল, তবে তিনি প্রাণভিক্ষা চান নি।

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় মতিউর রহমান নিজামী ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্রসংঘের নেতা এবং পাকিস্তানি বাহিনীর সহযোগী আল-বদর বাহিনীর সর্বোচ্চ নেতা।

মূলত ইসলামী ছাত্রসংঘের কর্মীদের নিয়েই এই মিলিশিয়া বাহিনী গঠিত হয়েছিল - যাদের বিরুদ্ধে বুদ্ধিজীবী হত্যাকান্ড সহ গুরুতর সব মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ রয়েছে।

বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, মুক্তিযুদ্ধের পর তিনি বিদেশে পালিয়ে থাকলেও ১৯৭৩ সালে তিনি গোপনে বাংলাদেশে ফেরেন, এবং জামায়াতে ইসলামীর পুনর্গঠনে সক্রিয় ভুমিকা রাখেন।

এর পর ১৯৯১ সালে পাবনা-১ এর সংসদ সদস্য এবং ২০০১ সালে বিএনপি-জামাত জোট সরকারের মন্ত্রী হন মতিউর রহমান নিজামী।

২০০০ সালে তিনি জামায়াতের আমীর হন।