প্রধান শিক্ষক পুনর্বহাল, ম্যানেজিং কমিটি বাতিল

Image caption সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখছেন শিক্ষামন্ত্রী নূরুল ইসলাম নাহিদ

বাংলাদেশের নারায়ণগঞ্জের পিয়ার সাত্তার লতিফ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তকে তার পদে পুনর্বহালের ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ।

একই সাথে বাতিল করা হয়েছে ওই স্কুলের ম্যানেজিং কমিটি।

ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী এসব ঘোষণা দেন।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিবিসির সংবাদদাতা আকবর হোসেন।

তিনি জানান মন্ত্রী বলেছেন মন্ত্রণালয়ের গঠিত তদন্ত কমিটি প্রাথমিকভাবে তার বিরুদ্ধে ধর্ম অবমাননার অভিযোগের সত্যতা পায়নি।

ছবির কপিরাইট BBC Bangla
Image caption শ্যামল কান্তি ভক্ত

মন্ত্রী বলেন প্রধান শিক্ষকের সাথে যা হয়েছে তা অত্যন্ত অন্যায় ও দু:খজনক এবং প্রধান শিক্ষকের পদ থেকে তাকে বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত ছিল অবৈধ।

তবে শিক্ষক লাঞ্চনার ঘটনায় স্থানীয় সংসদ সদস্য সেলিম ওসমানের ভূমিকা কি ছিলো এ বিষয়ে বারবার প্রশ্ন করা হলেও তিনি তার সরাসরি জবাব দেননি।

এমপির উপস্থিতিতেই গত ১৩ই মে প্রধান শিক্ষককে কান ধরে ওঠ-বস করিয়ে সাজা দেয়ার অভিযোগ ওঠে।

প্রধান শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তকে এর আগে উত্তেজিত একদল লোক মারধোর করে।

সেলিম ওসমান ওই শিক্ষককে প্রকাশ্যে কান ধরে ওঠ বস করতে বাধ্য করছেন এমন ছবি ও ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে দেখা দেয় তীব্র ক্ষোভ।

পরদিন ১৪ইমে প্রধান শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্ত তার ওপর নির্যাতনের বিস্তারিত বর্ণনা দেন বিবিসি বাংলাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে।

তিনি অভিযোগ করেন যে, ধর্ম নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন এমন অপবাদ দিয়ে তার বিরুদ্ধে স্থানীয় লোকজনকে ক্ষেপিয়ে তোলা হয়েছিল।

ছবির কপিরাইট BBC Bangla
Image caption পিয়ার সাত্তার উচ্চ বিদ্যালয়

শ্যামল কান্তি ভক্ত বলেন, তিনি স্কুলের এক ছাত্রকে সাজা দিতে গিয়ে মারধোর করেছিলেন। সেই ঘটনাটিকেও তার বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হয়। বলা হয়, এই ছাত্রকে মারার সময় তিনি ধর্ম সম্পর্কে কটু কথা বলেছেন।

এরকম কোন মন্তব্য করার কথা তিনি অস্বীকার করেছেন।

স্কুলের পরিচালনা নিয়ে বিরোধের জের ধরে যারা তার ওপর ক্ষুব্ধ ছিল তারা পুরো ঘটনার পেছনে আছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।

স্থানীয় এমপি সেলিম ওসমান বিবিসির কাছে স্বীকার করেছেন যে এই শিক্ষককে কান ধরে ওঠ-বস করিয়ে সাজা দেয়া হয়।

তিনি দাবি করেছেন, জনরোষ থেকে এই শিক্ষককে বাঁচাতে এ ছাড়া আর কোন উপায় ছিল না।

চিঠিপত্র: সম্পাদকের উত্তর