নেটোর ইতিহাসে সবচাইতে বড় যৌথ সামরিক মহড়া

পোল্যান্ডের সমুদ্র, স্থল ও আকাশপথে নেটো মহড়া। ছবির কপিরাইট AP
Image caption পোল্যান্ডের সমুদ্র, স্থল ও আকাশপথে চলে এই মহড়া।

নেটোর ইতিহাসে সবচাইতে বড় এই যৌথ সামরিক মহড়ায় ৩১ হাজারেরও বেশি সেনা অংশ নিচ্ছে।

মার্কিন, ব্রিটিশ, পোলিশ ও অন্য নেটো সদস্য দেশের সেনাদের অংশগ্রহণে পোল্যান্ডের সমুদ্র, স্থল ও আকাশপথে চলা এই সামগ্রিক মহড়ার নাম দেয়া হয়েছে এনাকন্ডা সিক্সটিন।

সামনে আসছে নেটো সম্মেলনের মাত্র সপ্তাহখানেক আগে এই মহড়া শুরু হলো।

পোল্যান্ড ও বাল্টিক দেশগুলোতে একটা উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সেনা মোতায়েন করার ব্যাপারে এই সম্মেলন থেকে নেটো নেতৃবৃন্দের সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

রাশিয়ার দিক থেকে সম্ভাব্য হুমকি নিয়ে উদ্বেগের পটভূমিতে চলছে এমন মহড়া।

পোল্যান্ড থেকে বিবিসির সংবাদদাতা জানাচ্ছেন, দু’বছর আগে ইউক্রেনের ক্রাইমিয়া নিয়ে রাশিয়া যে আক্রমণাত্মক অবস্থান নিয়েছিলো তার পটভূমিতে সেখানে শক্তির জানান দিয়ে সদস্য দেশগুলোকে আশ্বস্ত করার চেষ্টা বলে মনে হচ্ছে এই মহড়াকে।

এমন শক্তির প্রদর্শনীতে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ বলেছেন, রাশিয়ার সীমান্তের এত কাছে নেটো সেনারা অবস্থান নিলে সেটি তার দেশের নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি হিসেবে দেখা দেবে।

মি.ল্যাভরভ বলেছেন, রাশিয়ার সীমান্তের কাছাকাছি নেটো যে সামরিক উপস্থিতি নিয়ে আসছে, অন্য দেশগুলোকেও যে ধরনের সেনা কার্যক্রমের আওতায় নিয়ে আসছে এই বিষয়টিকে রাশিয়া মোটেই ভালোভাবে দেখছে না এবং সে মনোভাব জানাতে রাশিয়ার কোন রাখঢাকও নেই।

দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য রাশিয়ার সার্বভৌম অধিকার ও শক্তি রয়েছে বলে মি:ল্যাভরভও জোরালোভাবে জানান দিয়েছেন।

এনাকন্ডা সিক্সটিন নামের এই সামরিক মহড়া শুরু হয়েছিল ২০০৬ সালে এবং প্রতি দুই বছর অন্তর এটি হয়ে থাকে।

তবে এবারের নতুন বিষয় হলো, প্রচলিত যে সব হুমকি আছে, সেগুলোর পাশাপাশি সাইবার হামলার মতন নতুন ধরনের হুমকি মোকাবেলায় নেটো কতটা সমর্থ সেটি যাচাই করে নেয়া।

প্রায় ১২ হাজার পোলিশ, ১৪ হাজার মার্কিন এবং ১ হাজার ব্রিটিশ নাগরিক এবারের মহড়ায় অংশ নিচ্ছে।

চিঠিপত্র: সম্পাদকের উত্তর