যারা মানুষ পুড়িয়ে মারতো, তারাই গুপ্তহত্যা করছে: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

ছবির কপিরাইট BD PMO
Image caption বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

যারা প্রকাশ্যে মানুষ পুড়িয়ে হত্যা করতো, তারাই এখন কৌশল পাল্টে গুপ্তহত্যা করছে বলে বলেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তবে তারা কেউ পার পাবে না, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের খুঁজে বের করবে বলে তিনি ঘোষণা দিয়েছেন।

ঢাকায় গণভবনে একটি সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ''গুপ্তহত্যার প্রক্রিয়া একই রকম। যারা প্রকাশ্য দিবালোকে পুড়িয়ে মানুষ হত্যা করতো, তারাই এখন কৌশল পাল্টেছে।''

ইসলাম শান্তির ধর্ম উল্লেখ করে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ''আমাদের দেশে সত্যিকার ইসলাম ধর্মে বিশ্বাসীকে আহ্বান জানাব, তাদের পরিবারের সদস্যরা সন্ত্রাসী, জঙ্গিবাদী পথে যাচ্ছে কিনা, তা দেখার দায়িত্ব তাদের। কারণ ধর্মের নামে যারা হত্যা চালায়, তারা আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের নির্দেশ অমান্য করে।''

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ''চট্টগ্রামে পুলিশের এসপির স্ত্রীকে হত্যা পরিকল্পিত ঘটনা। কিন্তু সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান সুদৃঢ়। এই গুপ্ত হত্যাকারীদের খুঁজে বের করা এবং কোথায় বসে তারা প্লান-পরিকল্পনা করছে, তা খুঁজে বের করতে হবে। তবে সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বসে নেই। জঙ্গি জঙ্গিই, তারা যে দলেরই হোক না কেন, তারা পার পাবে না।''

কিন্তু রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এরকম ঘটনার দায় সরকার বিরোধীদের উপর চাপানো হচ্ছে বলে বিভিন্ন মহল থেকে অভিযোগ ওঠে, এরকম এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ''যারা এরকম সমালোচনা করেন, তারাই জঙ্গিবাদীদের সহায়তা করতে চান। আমি হেড অব দ্য গভর্নমেন্ট, আমার কাছে সব তথ্য আছে। আমরা সূত্র ধরেই কথা বলি। আমরা যাদের ধরি, তাদের যে যোগসূত্র আমরা পাই, সে কারণেই আমরা এটা বলতে বাধ্য হই।''

যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিয়ে পাকিস্তানের বর্তমান ভূমিকায় বাংলাদেশ সম্পর্ক ছিন্ন করবে কি? এই প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ''পাকিস্তানের কর্মকাণ্ডেই তাদের ভূমিকা স্পষ্ট হচ্ছে। কিন্তু আমি কোন দেশের সাথে সম্পর্ক নষ্ট করতে চাই না। একটা কূটনীতিক সম্পর্ক আছে, থাকবে। কিন্তু এ ধরণের কমেন্ট আমরা গ্রহণ করি না।''

সৌদি আরবে পাঁচদিনের সফর শেষে মঙ্গলবার বিকালে দেশে ফিরে আসেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর আগে তিনি দ্বিপক্ষীয় সফরে বুলগেরিয়া আর জি-৭ সফরে জাপান যান। এসব সফরের বিষয় জানাতে সংবাদ সম্মেলনটি ডাকা হলেও, সেখানে নানা বিষয় উঠে আসে।

এবারের সৌদি আরব সফর অত্যন্ত ফলপ্রসূ হয়েছে বলে তিনি জানান। সৌদি আরবে শ্রমিকদের পাশাপাশি চিকিৎসক, প্রকৌশলী, নার্সসহ দক্ষ পেশাজীবী নেবে বলে তিনি জানান।

চিঠিপত্র: সম্পাদকের উত্তর