বাংলাদেশে পুলিশী অভিযানে ১ হাজারের বেশি গ্রেফতার

police_in_bangladesh_
Image caption সারা বাংলাদেশ জুড়ে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ

বাংলাদেশে পুলিশ বলছে, শুক্রবার থেকে ইসলামী জঙ্গী দমনের যে অভিযান শুরু হয়েছে তাতে এ পর্যন্ত এক হাজারেরও বেশি লোককে গ্রেফতার করা হয়েছে।

শুক্রবার শুরু হওয়া অভিযানের প্রথম দিনই অন্তত ৯শ লোককে গ্রেফতার হয়। তবে এর পর থেকে এখন পর্যন্ত আরো ঠিক কতজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে তার সুনির্দিষ্ট কোন সংখ্যা এখনো জানা যায় নি।

সংবাদ সংস্থার খবরে বলা হচ্ছে সবশেষ আটককৃতদের মধ্যে সাধারণ অপরাধীও রয়েছে।

এই অভিযান চলার মধ্যেই দেশের বিভিন্ন স্থানে পুলিশের সাথে কথিত 'বন্দুকযুদ্ধে' গত পাঁচদিনে অন্তত পাঁচ জন নিহত হয়েছে। গতরাতে নড়াইলেও পুলিশের সাথে বন্দুকযুদ্ধে একজনের নিহত হবার খবর পাওয়া যায়। তবে পুলিশের একজন কর্মকর্তা একে 'জঙ্গী দমন অভিযানের সাথে সম্পর্কিত নয়' বলে বর্ণনা করেছেন।

সম্প্রতি সন্দেহভাজন জঙ্গীদের হাতে বাংলাদেশের নানা অংশে একের পর এক হত্যাকান্ড ঘটতে থাকার প্রেক্ষাপটে পুলিশের মহাপরিদর্শক একেএম শহিদুল হক এই অভিযানের ঘোষণা দেন।

প্রধানত ধারালো অস্ত্রের আঘাতে এসব অতর্কিত হত্যাকান্ড ঘটানো হচ্ছে - যেগুলোতে আক্রমণের প্রকৃতি, হামলাকারীদের সংখ্যার যে বর্ণনা পাওয়া যাচ্ছে, তা প্রায় হুবহু এক রকম।

হিন্দু ও খ্রীষ্টানসহ বিভিন্ন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ, ব্লগার, লেখক, প্রকাশক, সমকামী অধিকার কর্মী, থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও সংস্কৃতিকর্মী সহ সমাজের নানা অংশের লোকের এসব হত্যাকান্ডের শিকার হচ্ছেন।

ছবির কপিরাইট EPA
Image caption চট্টগ্রামে পুলিশ কর্মকর্তার স্ত্রী হত্যাকান্ড

কয়েকদিন আগে চট্টগ্রামে জঙ্গীদমন অভিযানে তৎপর ছিলেন এমন একজন পুলিশ কর্মকর্তা বাবুল আখতারের স্ত্রী মাহমুদা আখতার একই ধরণের এক আক্রমণে নিহত হন।

এর সাথে সংশ্লিষ্টতার সন্দেহে চট্টগ্রামে একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে - যে এ ঘটনার 'মূল সন্দেহভাজন হতে পারে' বলেও পুলিশ বর্ণনা করেছে।

সন্দেহভাজন জঙ্গীরাই এ ঘটনা ঘটিয়েছে এমন কথা প্রথমে মনে করা হলেও - আনসার আল-ইসলাম নামে একটি জিহাদি সংগঠন 'সাইট' নামের একটি ওয়েবসাইটে এক বিবৃতিতে এ হত্যাকান্ডকে 'অনুমোদনযোগ্য নয়' এবং জিহাদিদের ঘাড়ে দোষ চাপানের চেষ্টা' বলে বর্ণনা করে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, এ ধরণের হত্যাকান্ড থামাতে তার সরকার যা করা দরকার তার সবই করবে।

কিন্তু একটি মানবাধিকার সংগঠন এ ধরণের অভিযানে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। মানবাধিকার সংগঠন আইন ও শালিস কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী পরিচালক নুর খান লিটন বলছিলেন, এই ধরণের অভিযানে সাধারণ মানুষের হয়রানির তথ্য বিগত অভিযান গুলোতে পেয়েছেন।

সরকারবিরোধী রাজনৈতিক দল বিএনপি বলছে, এই অভিযানের আড়ালে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে টার্গেট করা হচ্ছে।

চিঠিপত্র: সম্পাদকের উত্তর