যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন ও অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ নীতিমালা নিয়ে বিতর্ক

ছবির কপিরাইট Reuters
Image caption ঘটনাস্থলে ফুল দিয়ে আর মোমবাতি জ্বালিয়ে নিহতদের শ্রদ্ধা জাননো হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রে সমকামীদের একটি ক্লাবে বন্দুকধারীর হামলায় ৪৯ জন নিহত হওয়ার পর সেখানকার অভিবাসন ও অস্ত্র ক্রয় বিক্রয় নীতিমালা নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক শুরু হয়েছে।

রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারো মুসলিমদের সেদেশে প্রবেশের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার দাবি তুলেছেন।

তিনি গণহারে সবাইকে যুক্তরাষ্ট্রে ঢুকতে দেয়ার অভিবাসন নীতিমালাকে এই হামলার জন্য দোষারোপ করছেন।

অন্যদিকে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রার্থী হিলারি ক্লিনটন মুসলিম বিদ্বেষের জন্য ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমালোচনা করেছেন।

দেশটির সহজ অস্ত্র ক্রয় নীতিমালার বিরুদ্ধেও অবস্থান নিয়েছেন তিনি।

পুরো যুক্তরাষ্ট্র জুড়ে এখনো মানুষজন অরল্যান্ডো হামলার রেশ সামলে ওঠার চেষ্টা করছেন।

অরল্যান্ডো জুড়ে শোকের আবহ।

সেখানে নিহতদের জন্য একটি বিশেষ স্মরণ অনুষ্ঠানের আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে।

দেশটিতে শোকের আবহের মাঝেই এখন এই চলছে বিতর্ক।

ছবির কপিরাইট AFP
Image caption অরল্যান্ডো জুড়ে শোকের আবহ।

রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন মার্কিন অভিবাসন নীতিমালা একেবারেই অকার্যকর।

তার মতে এরকম একজন হামলাকারী যুক্তরাষ্ট্রে ছিলো কারণ তার পরিবারকে যুক্তরাষ্ট্রে ঢুকতে দেয়া হয়েছিলো।

তিনি আরো বলেন এখন যে মার্কিন অভিবাসন নীতিমালা রয়েছে তাতে গণহারে যুক্তরাষ্ট্রে মানুষজনকে আসতে দেয়া হচ্ছে এবং সে বিষয়টির বিরুদ্ধে এখন জোর আলাপ হওয়া উচিত।

মার্কিন অভিবাসন নীতিমালা দেশটির নাগরিকদের নিরাপত্তা বিরোধী বলে তিনি মত প্রকাশ করেছেন।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের মুসলিম বিরোধী মনোভাবের চরম সমালোচনা করেছেন হিলারি ক্লিনটন।

ছবির কপিরাইট EPA AFP
Image caption অভিবাসন ও অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ নিতিমালা নিয়ে বিতর্কে জড়িয়েছেন হিলারি ক্লিনটন ও ডোনাল্ড ট্রাম্প।

তবে তিনি জোরালোভাবে মত দিয়েছেন দেশটিতে এসল্ট রাইফেল ক্রয় করার সহজ আইনকানুনের বিরুদ্ধে।

মিসেস ক্লিনটন বলছেন, যুদ্ধের ময়দানে যেসব অস্ত্রের ব্যবহার চলে সেগুলোর কোন যায়গা নেই মার্কিন শহরের রাস্তাঘাটে।

এফবিআইএর মতো গোয়েন্দা সংস্থা যাকে সন্দেহভাজনের তালিকায় রেখেছিলো এমন একজন ব্যক্তি কিভাবে কোন প্রশ্ন ছাড়া দোকানে গিয়ে অস্ত্র কিনে ফেললো সেই প্রশ্ন এখন সবারই তোলা উচিত, এমন মন্তব্য করেন বলছিলেন হিলারি ক্লিনটন।

তবে এসব বিতর্কের মাঝেই অরল্যান্ডো শহরের নাগরিকেরা নিহতদের শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন ঘটনাস্থলে ফুল দিয়ে আর মোমবাতি জ্বালিয়ে।

পালস নাইটক্লাবে চালানো ঐ হামলাকে বলা হচ্ছে আধুনিক যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী গুলিবর্ষণের ঘটনা।

চিঠিপত্র: সম্পাদকের উত্তর