ইরাকের ফালুজায় তীব্র মানবিক বিপর্যয়

ছবির কপিরাইট Reuters
Image caption সাহায্যকর্মীরা বলছেন, ফালুজায় বাস্তুচ্যূত মানুষদের জন্য খাদ্য, পানি ও ওষুধের সংকট দেখা দিয়েছে।

ইরাকের ফালুজা শহরে বেসামরিক মানুষের দেশত্যাগের ঘটনায় সেখানে মানবিক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। সাহায্যকমীরা এমনটাই জানাচ্ছেন।

জাতিসংঘ বলছে, চার সপ্তাহ ধরে সেখানে তথাকথিত ইসলামিক স্টেট জঙ্গিদের বিরুদ্ধে সরকারের অভিযানের কারণে আশি হাজারের মত মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়েছে।

একদিকে তথাকথিত ইসলামিক স্টেট জঙ্গিদের বিরুদ্ধে সরকারি বাহিনীর লড়াই চলছে।

অন্যদিকে শহরের বাইরে মানুষে গাদাগাদি ক্যাম্পগুলোতে আশ্রয় নেয়া লোকজনের কাছে খাদ্য, পানি এবং ওষুধ সামগ্রী পৌঁছে দেয়ার জন্য আপ্রাণ লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন সাহায্য কর্মীরা।

নরওয়ের রিফিউজি কাউন্সিলের কর্মকর্তা নাসর মুফলাহি বলেন, ফালুদায় মানুষের উপচে পড়া সংখ্যা এবং তাদের চাহিদা মোকাবেলায় সাহায্য কর্মীদের সামর্থ্যের সীমা ছাড়িয়ে গেছে।

ফালুজার বেশিরভাগ এলাকায় সরকারি বাহিনী সাফল্য পেয়েছে। কিন্তু অনেক এলাকাতে সংঘাত এখনো চলছে।

ছবির কপিরাইট AFP
Image caption আশ্রয় শিবিরে ফালুজার বাস্তুহারা পরিবার

শহরের বেশিরভাগ বাড়িঘরই গুড়িয়ে দেয়া হয়েছে।

তবে বিধ্বস্ত এলাকা থেকে বিবিসির সংবাদদাতা আহমেদ মাহের জানাচ্ছেন, জঙ্গিরা এখনো সক্রিয়।

তিনি জানান, রাস্তার ধারে ছড়িয়ে থাকা অবিস্ফোরিত শেল দেখে বোঝা যায়, যারা ঘরবাড়ি ছেড়ে গেছেন তাদের জন্য ফেরাটা কত কঠিন।

এখানকার যে দিকেই গেছেন সর্বত্রই গোলাগুলির আওয়াজ শুনেছেন তিনি।

ঘরবাড়ি ছেড়ে বহু মানুষ রাস্তায় রাত কাটাচ্ছেন।

এছাড়া আগামী কয়েকদিন দিনের বেলায় তাদের ৪৭ ডিগ্রী তাপমাত্রায় দিনের বেলা খোলা আকাশের নিচে কাটাতে হবে।

ব্যাপক চাহিদার তুলনায় ত্রাণ খুব অপর্যাপ্ত।

নতুন চালু করা একটি আশ্রয় ক্যাম্প আমরিয়াত আল ফালুদায় আঠারোশো নারীর জন্য কেবল একটি টয়লেটের ব্যবস্থা আছে।

এই সংঘাতে বাস্তুচ্যুত ৩৪ লাখ লোকের চাহিদা মেটাকে হিমশিম খাচ্ছে দেশটির সরকার।

চিঠিপত্র: সম্পাদকের উত্তর