ঝিনাইদহে মন্দিরের সেবায়েতকে কুপিয়ে হত্যা

ছবির কপিরাইট Google Maps
Image caption একমাসের কম সময়ের ব্যবধানে ঝিনাইদহে আবার মন্দিরের একজন সেবায়েতকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা

একমাসের কম সময়ের ব্যবধানে ঝিনাইদহের আরেকটি মন্দিরের সেবায়েতকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।

ভোরে মন্দিরের ফুল তোলার সময় তিনজন দুর্বৃত্ত মোটরসাইকেলে এসে শ্রী শ্রী রাধামদন গোপাল বিগ্রহ মঠ নামের মন্দিরটির সেবায়েত বা সেবক শ্যামানন্দ দাসকে কুপিয়ে চলে যায়।

শুক্রবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে এই ঘটনা ঘটেছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। সম্প্রতি সংখ্যালঘু ধর্মাবলম্বীদের উপর যে একাধিক হামলার ঘটনা ঘটেছে, তার সঙ্গে এই হামলার মিল রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

৭ জুন এই ঝিনাইদহে আনন্দ গোপাল গাঙ্গুলি নামের আরেকজন হিন্দু পুরোহিতকে একইভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছিল।

ঝিনাইদহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আজগর আলী শেখ বিবিসিকে জানান, ভোর সাড়ে ৫টার দিকে উত্তর কাষ্ট সাগরা গ্রামে, ঢাকা- খুলনা মহাসড়কের পাশে অবস্থিত মন্দিরটির সামনে ফুল তুলছিলেন আর জপ করছিলেন সেবায়েত শ্যামানন্দ দাস। এ সময় তিনজন দুর্বৃত্ত এসে তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে চলে যায়।

তাকে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও সেখানে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

ঝিনাইদহ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাসান হাফিজুর রহমান বিবিসিকে জানান, শ্যামানন্দ দাস মন্দিরের সেবায়েত হিসাবে এসে কিছুদিন থাকেন, পরে আবার অন্য কোন মন্দিরে চলে যান। এভাবে অনেকদিন ধরেই এই মন্দিরে তার যাতায়াত ছিল। সর্বশেষ বৃহস্পতিবারই তিনি যশোর থেকে এই মন্দিরে আসেন।

গৃহত্যাগী শ্যামানন্দ দাসের পরিবার বা স্বজনদের সম্পর্কে এখনো তথ্য পায়নি পুলিশ।

সম্প্রতি সংখ্যালঘু ধর্মাবলম্বীদের উপর যে হামলাগুলো হয়েছে, তার সঙ্গে এই হামলারও মিল রয়েছে বলে জানান মি. রহমান।

হামলাকারীদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের কাজ শুরু হয়েছে বলে তিনি জানান।

শ্যামানন্দ দাস চারবছর আগে এই মন্দিরটির সেবায়েত হিসাবে দায়িত্বভার শুরু করেন।

গত কয়েকবছরে সংখ্যালঘু ধর্মীয় সম্প্রদায়ের সদস্যদের উপর একই ভাবে মোটরসাইকেলে করে এসে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা বা আহত করার প্রায় অর্ধশত ঘটনা ঘটেছে।

আল কায়েদার বাংলাদেশ শাখা বা আইএসের নামে ইন্টারনেটে বার্তায় বেশিরভাগ হামলার দায়িত্ব করা হয়েছে। যদিও বাংলাদেশ সরকারের দাবি, বাংলাদেশে এসব সংগঠনের কোন অস্তিত্ব নেই।

চিঠিপত্র: সম্পাদকের উত্তর