ও সবাইকে সাহায্য করতো, এমনকি হত্যাকারী ভাইকেও: কান্দিল বালোচের পিতা

Image caption কান্দিল বালোচকে তাদের পারিবারিক গোরস্তানে দাফন করা হয়

পাকিস্তানে নিজের ভাইয়ের হাতে কান্দিল বালোচ খুন হওয়ার পর ওই পরিবারের পিতা বলেছেন, তার মেয়েই তাদেরকে বিভিন্নভাবে সাহায্য সহযোগিতা করতেন।

“সে আমাদের সবাইকে সাহায্য করতো, এমনকি আমার ছেলেকেও যে তাকে হত্যা করেছে,” পাকিস্তানের সুপরিচিত ডন পত্রিকাকে একথা বলেছেন কান্দিল বালোচের পিতা মোহাম্মদ আজিম।

সোশাল মিডিয়ায় নিজের খোলামেলা ও যৌন উত্তেজক ছবি, ভিডিও, স্ট্যাটাস ও মন্তব্য পোস্ট করে পাকিস্তানের মতো রক্ষণশীল সমাজে আলোড়ন ও বিতর্কের সৃষ্টি করেছিলেন সোশাল মিডিয়া সেলেব্রিটি কান্দিল বালোচ।

পুলিশ বলছে, তিনি পরিবারের সম্মান নষ্ট করেছেন একারণে তার ভাই তাকে শ্বাসরোধ করে গত সপ্তাহে হত্যা করেছে।

কান্দিল বালোচকে তাদের পারিবারিক গোরস্তানে দাফন করা হয় গতকাল, রবিবার।

মিস বালোচের বয়স ছিলো ২৬ বছর, তার আসল নাম ফৌজিয়া আজিম।

Image caption সোশাল মিডিয়ায় খোলামেলা ছবি দিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি করেছিলেন কান্দিল বালোচ

সম্প্রতি পাকিস্তানের গুরুত্বপূর্ণ এক মুসলিম নেতার সাথে তার নিজের একটি ছবি পোস্ট করে তিনি প্রচুর বিতর্কের সৃষ্টি করেন।

তাকে হত্যা করার পর পাকিস্তানে পরিবারের সম্মান রক্ষায় হত্যা বা হনার কিলিং নিয়ে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

বিতর্ক হচ্ছে পাকিস্তানের মতো একটি দেশে একজন নারী সোশাল মিডিয়ায় কতোটুকু কি করতে পারেন সে বিষয়ে।

মিস বালোচ ছিলেন একজন মডেল ও অভিনেত্রী।

গত শনিবার মুলতানে তার নিজের বাড়িতে তাকে হত্যা করা হয়।

ছবির কপিরাইট bbc
Image caption কান্দিল বালোচের মা
Image caption কান্দিল বালোচের পিতা

তার ২৫ বছর বয়সী ভাই ওয়াসিম বালোচ এই হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেছেন এবং তাকে পুলিশ আটকও করেছে।

ভাই ওয়াসিম বালোচ বলেছেন, মুসলিম নেতার সাথে ছবি প্রকাশের পরেই তিনি তার বোনকে হত্যা করার সিদ্ধান্ত নেন।

ওই ছবিটি বহু মানুষ শেয়ার করেছে। ফেসবুকে তার ছিলো সাত লাখ ফলোয়ার।

মিস বালোচ ১৪ই জুলাই ফেসবুকে লিখেছিলেন, “আমি আধুনিক যুগের একজন নারীবাদী। আমি সাম্যে বিশ্বাস করি। নারী হিসেবে আমি কেমন হবো সেটা আমাকে ঠিক করতে হবে। আমার মনে হয় না শুধু সমাজের জন্যে নারীদের চলতে হবে। আমি

মুক্তচিন্তা ও মুক্তমনের একজন নারী। আমি এই আমাকে ভালোবাসি।”

Image caption মুসলিম নেতার সাথে আলোচিত ছবি

মুলতান থেকে ১৩০ কিমি দূরে ডেরা গাজী খানে মিস বালোচের জানাজা হয়েছে যাতে হাজার হাজার মানুষ অংশ নিয়েছে বলে খবরে বলা হচ্ছে।

তার পিতামাতা হত্যার জন্যে ছেলেকে অভিযুক্ত করে পুলিশের কাছে মামলা করেছেন।

বলা হয়েছে যে আরেকজন ভাই তাদের মেয়েকে খুন করার ব্যাপারে সহযোগিতা করেছে।

পিতা বলেছেন, “আমার মেয়েটি যা কিছু অর্জন করেছে তা দেখে আমার ছেলে খুব একটা খুশি ছিলো না।”

মিস বালোচের গ্রামের অধিবাসীরা তাকে হত্যার নিন্দা করেছেন।

চিঠিপত্র: সম্পাদকের উত্তর