বাংলাদেশে মীর কাশেমের ফাঁসির প্রতিবাদে বুধবার জামায়াতের হরতাল

ছবির কপিরাইট Getty
Image caption মীর কাশেম আলী ২০১২ সালের জুন মাস থেকেই কারাবন্দী। এখন তার ফাঁসীর দণ্ড কার্যকর করার জন্য অপেক্ষা শুধু রিভিউ আবেদনের রায় প্রকাশের এবং মি. আলী যদি রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণ ভিক্ষার আবেদন করেন, তবে তার জবাবের। (ফাইল চিত্র)

“আমি ভেতরে ভেতরে খুব উদ্বিগ্ন। আগামীকালের জন্য অত্যন্ত উদ্বিগ্ন”।

জামায়াতের অর্থ যোগানদাতা হিসেবে পরিচিত শীর্ষস্থানীয় নেতা মীর কাশেম আলীর রিভিউ আবেদনের রায় ঘোষণার ঠিক একদিন আগে এই বক্তব্য দিয়েছিলেন বাংলাদেশের অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।

তার এই বক্তব্যটি গতকাল (সোমবার) বাংলাদেশের গণমাধ্যমগুলোতে প্রকাশিত হয়।

রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন কর্মকর্তা হিসেবে সুপ্রিম কোর্টে রাষ্ট্রপক্ষ হয়ে মীর কাশেমের মামলাটি পরিচালনা করেন মি. আলম।

মঙ্গলবার সেই রিভিউ আবেদন খারিজ করে দেবার পর মাহবুবে আলম সাংবাদিকদের কাছে স্বস্তি প্রকাশ করে বললেন, “যে আশা নিয়ে সমস্ত জাতি এবং আমি অপেক্ষা করেছি সেটা সম্পূর্ণ হয়েছে। এজন্য আমরা এ রায়ে সন্তুষ্ট”। সোমবার মাহবুবে আলমের বক্তব্যে আসন্ন রায় নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশের ঘটনা নানারকম আলোচনার জন্ম দিয়েছিল।

বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলোতে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছিলেন, কি কারণে এমন মন্তব্য করে থাকতে পারেন অ্যাটর্নি জেনারেল?

ছবির কপিরাইট Website
Image caption সংগঠনের ওয়েবসাইটে বিবৃতি প্রকাশের মাধ্যমে বুধবার হরতাল ডেকেছে জামায়াতে ইসলামী।

আজ সেই প্রশ্নের জবাব দিলেন তিনি।

বললেন, “আইনজীবী হিসেবে আমি এই মামলাটি পরিচালনা করেছি। আমার উদ্বিগ্ন হওয়া স্বাভাবিক। অন্যান্য যুদ্ধাপরাধীদের মৃত্যুদণ্ড যেভাবে বহাল রয়েছে এটা তা না থাকলে আমি এবং সমগ্র জাতি হতাশ হতাম। তার থেকেই এই উদ্বিগ্নতা”।

তবে রায় নিয়ে স্পষ্টতই অসন্তোষ প্রকাশ করেছে আসামী পক্ষ।

মীর কাশেম আলীর আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেছেন, অসত্য তথ্যপ্রমাণ দেখিয়ে এই রায় বহাল রাখা হয়েছে।

তবে সর্বোচ্চ আদালতের এই রায় তারা মেনে নিচ্ছেন বলে উল্লেখ করেন।

এই রায়কে সরকারী ষড়যন্ত্র হিসেবে উল্লেখ করে নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামী।

দলটির ওয়েবসাইটে দেয়া এক বিবৃতিতে এই বক্তব্য দেয়া হয়েছে।

বিবৃতিতে আগামীকাল বাংলাদেশ জুড়ে হরতাল পালনের ঘোষণা দিয়েছে জামায়াত।