http://www.bbcbengali.com

টরন্টোয় একুশে

প্রায় সাত বছর আগে ক্যানাডার ভ্যানকুবার শহরে বসবাসরত দুই বাঙ্গালী রফিকুল ইসলাম এবং আবদুস সালাম একুশে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণার আবেদন জানিয়েছিলেন জাতিসংঘের মহাসচিব কফি আনানের কাছে। তারপর থেকেই এই দিনটি সারা বিশ্বে আন্তর্জাতিক দিবস হিসেবে পালিত হচ্ছে। আর এ বছর সেই ক্যানাডার আরেক শহরে দিবসটি পালিত হচ্ছে বিশেষ মর্যাদায়।

জাতিসংঘের বিজ্ঞান, শিক্ষা ও সংস্কৃতি বিষয়ক সংস্থা ইউনেস্কো একুশে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে ১৯৯৯ সালের ১৭ই নভেম্বর। জাতিসংঘের সাধারন পরিষদের ৩০তম পূর্নাংগ অধিবেশনে বাংলাদেশসহ সাতাশটি দেশের সমর্থনে সর্বসম্মতভাবে একুশে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিসের স্বীকৃতি পায়।

ঘোষণা ও বিবৃতি
আর এবছর ক্যানাডায় টরন্টো শহর কর্তৃপক্ষ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষ্যে একটি ঘোষণা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করছে। পাশাপাশি অন্টারিও প্রদেশের মূখ্যমন্ত্রী একটি বিবৃতিও দিচ্ছেন। টরন্টো শহরে বসবাসরত বাংলাদেশী সাংবাদিক মুহাম্মদ আলী বুখারি জানান, এই শহরে বসবাসরত বাঙ্গালীদের আবেদনের পর শহর কর্তৃপক্ষ সিটি হলের প্রধান ফটকে এই ঘোষণাটি প্রদর্শন করার সিদ্ধান্ত নেয়।

পাশাপাশি পৌরসভার ওয়েবসাইটে ফেব্রুয়ারির প্রথম দিন থেকে ঘোষণাটি স্থান পেয়েছে। শহরের মেয়র ডেভিড মিলার টরন্টোর অধিবাসীদের এই ২১শে ফেব্রুয়ারির অনুষ্ঠানে যোগ দেয়ার আহবান জানিয়েছেন যেখানে বাংলাভাষাভাষী ছাড়াও নানা দেশের নানা ভাষার মানুষ অংশ নিচ্ছে।

শহীদ মিনার
ডানফোর্থ এভিনিউর প্রিয়াংগন মোড়ে একটি শহীদ মিনার নির্মান করা হয়েছে যেখানে প্রবাসী বাঙ্গালীরা মধ্যরাতে প্রভাতফেরিতে যোগ দিয়ে ভাষা শহীদদের প্রতি তাদের শ্রদ্ধা আর ভালোবাসা নিবেদন করবেন।

টরন্টোয় বাংলাভাষাভাষী মানুষের সংখ্যা প্রায় ৫০ হাজার, যারা এবার বৃহত্ পরিসরে ব্যাপক আয়োজনে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন করছে। তারা বলছে, তাদের নিজেদের শহরের দুই বাঙ্গালীর উদ্যোগের ফলেই একুশে ফেব্রুয়ারি যে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে, সে নিয়েও তাদের আলাদা গর্ব রয়েছে।