ভূমিধসে বিধ্বস্ত হতে পারে এই মেয়েটির বাড়ি

পাহাড়ের ওপর কামরুর বাড়ি
বাড়িটি তৈরি হয়েছে বাঁশ আর প্লাস্টিক দিয়ে
কক্সবাজারে বিশ্বের সবচেয়ে বড় শরণার্থী শিবিরে সে তার দাদীকে নিয়ে থাকে।
ঝড়-বৃষ্টি হলে ভূমিধসে তাদের বাড়িটি খাড়া ঢাল বেয়ে পড়ে যেতে পারে
"এখানে থাকতে মোটেই ভাল লাগে না। বড় কষ্ট," কামরু বলছে, "সারাদিন খাটুনি দিতে হয়। খেলার সময় থাকে না।"
কামরুর সারাটা দিন কেটে যায় তার ৬০ বছর বয়সী দাদী আমিনাকে দেখাশোনার করতে গিয়ে
তাকে খাবার পানি জোগাড় করতে হয়, জ্বালানি জোগাড় করতে হয়, বাজারে গিয়ে খাবার কেনাকাটা করতে হয় এবং বাড়িতে ফিরে রান্না করতে হয়

বিশাল এই ক্যাম্পে প্রতিদিন তাকে খালি পায়ে এক কিলোমিটার পথ হেঁটে সংসারের কাজকর্ম করতে হয়
তাদের মত কষ্ট এই ক্যাম্পের অনেক পরিবারই করছে
কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পের অস্থায়ী বাড়িঘরে প্রায় ১০ লক্ষ মানুষ গাদাগাদি করে বসবাস করছেন

মানচিত্রের সূত্র: ইন্টার সেক্টর কোঅর্ডিনেশন গ্রুপ, রিচ ইনিশিয়েটিভ, ইউনিসেফ

কুতুপালং ক্যাম্প, যেখানে কামরুর বাড়ি, সেটা এতই বিশাল যে তার আয়তন ১৩ বর্গ কিলোমিটার (৫ বর্গমাইল)। এই ক্যাম্পে আছে ৬,০০,০০০ শরণার্থী।

মানচিত্রের সূত্র: ইন্টার সেক্টর কোঅর্ডিনেশন গ্রুপ, রিচ ইনিশিয়েটিভ, ইউনিসেফ

অনেক বাড়ি আছে যেগুলো ঝুঁকিপূর্ণ জায়গায় দাঁড়িয়ে। বর্ষায় ভেঙে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে প্রতি পাঁচ জনের মধ্যে একজনের, অর্থাৎ প্রায় ২,০০,০০০ মানুষের বাড়ি।

মানচিত্রের সূত্র: ইন্টার সেক্টর কোঅর্ডিনেশন গ্রুপ, রিচ ইনিশিয়েটিভ, ইউনিসেফ

এরই মধ্যে বন্যা ও ভূমিধসের শিকার হয়েছেন ৫০,০০০ মানুষ। ত্রাণ সংস্থাগুলো এদের নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নেয়ার চেষ্টা করছে। কিন্তু ঝড় এবং সাইক্লোনের মৌসুম সামনে।

মানচিত্রের সূত্র: ইন্টার সেক্টর কোঅর্ডিনেশন গ্রুপ, রিচ ইনিশিয়েটিভ

দক্ষিণ বাংলাদেশে কুতুপালং-এর পাশাপাশি এরকম আরও চারটি ক্যাম্প রয়েছে। গত বছর মিয়ানমারে রক্তাক্ত সেনা অভিযানের মুখে লক্ষ লক্ষ রোহিঙ্গা পালিয়ে এসে এসব ক্যাম্পে আশ্রয় নেয়।

মানচিত্রের সূত্র: ইন্টার সেক্টর কোঅর্ডিনেশন গ্রুপ

মিয়ানমারের সংখ্যালঘু মুসলমান রোহিঙ্গারা জানিয়েছেন কিভাবে তাদের গ্রাম পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে, কিভাবে মানুষজনকে জড়ো করে হত্যা করা হয়েছে, এবং কিভাবে নারী ও মেয়ে শিশুদের ধর্ষণ করা হয়েছে। বর্মী সেনাবাহিনী এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, তারা শুধু রোহিঙ্গা জঙ্গীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়েছে। সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে নয়।

মানচিত্রের সূত্র: হিউম্যান রাইটস্‌ওয়াচ

কামরুর বাবা আগেই অসুখে মারা গেছেন। "বর্মী সৈন্যরা আমাদের ওপর হামলা করার পর আমরা বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যাই," সে বলছে, "তারা আমাদের গ্রাম পুড়িয়ে দিয়েছে। আমার মাকে খুন করেছে।"

মানচিত্রের সূত্র: হিউম্যান রাইটস্‌ওয়াচ, ইউনিসেফ

কামরু এখন বাংলাদেশে তার নতুন জীবনের সাথে খাপ খাওয়ানোর চেষ্টা করছে। তার ১৬ বছর বয়সী একটি বোন আছে। সে ক্যাম্পের অন্যদিকে আরেকটি পরিবারের সাথে থাকে। ক্যাম্পে তার কিছু নতুন বন্ধুও তৈরি হয়েছে, যাদের সে খুবই ভালবাসে।

"কখনও কখনও হাতে সময় থাকলে আমরা একসাথে খেলি," সে বলছে, "মিয়ানমারে কী ঘটেছে তা নিয়ে কথা বলি। কখনও আমার খুব খারাপ লাগে। আমার জীবনে যা কিছু ভাল ঘটনা ঘটেছে আমি সেগুলো নিয়েও ভাবি।"
তার জীবনের আশা-আকাঙ্খাও তার মতই সরল। "আমার জীবনের সবচেয়ে বড় চিন্তা হলো বড় হয়ে আমাকে যেন আর রান্নার জ্বালানি কাঠ জোগাড় করতে না হয়," সে বলছে, " আর আমি চাই সুখি হতে।"